GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ডাক্তার আছেন / অস্টিওআর্থ্রাইটিস: যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

অস্টিওআর্থ্রাইটিস: যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

অস্টিওআর্থ্রাইটিস: যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো একটি ডিজেনারেটিভ জয়েন্ট রোগ, যেখানে ধীরে ধীরে জয়েন্টের তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, শক্তভাব ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। এটি আর্থ্রাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরনগুলোর একটি।

বয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। সাধারণত মেরুদণ্ড, নিতম্ব, পিঠ ও হাঁটুর জয়েন্ট বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস কেন হয়?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের ক্ষয় স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে শুধু বয়সই এর কারণ নয়। বিভিন্ন শারীরিক ও জিনগত কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন: শরীরের বাড়তি ওজন জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খেলাধুলাজনিত আঘাত: লিগামেন্টে আঘাত বা এসিএল ইনজুরি পরবর্তী সময়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ফ্র্যাকচার বা জয়েন্ট ডিসলোকেশন: আগে জয়েন্টে বড় ধরনের আঘাত বা হাড় ভাঙার ঘটনা থাকলেও পরবর্তীতে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জেনেটিক কারণ: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।

এ ছাড়া আগে থেকেই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (আরএ) বা গাউট থাকলে সেকেন্ডারি অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ

এই রোগের উপসর্গ সাধারণত হঠাৎ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

১. আক্রান্ত জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া
২. জয়েন্টে ফোলাভাব ও লালচে ভাব
৩. হাড়ের স্পার তৈরি হওয়া
৪. জয়েন্টে ঘর্ষণ বা ‘গ্রেটিং’ অনুভূতি
৫. জয়েন্টের বিকৃতি বা ডিফরমিটি
৬. জয়েন্টের নমনীয়তা কমে যাওয়া

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

জয়েন্টের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা না করে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে—

  • জয়েন্টে হাড়ের স্পার থাকলে
  • জয়েন্টে মিসঅ্যালাইনমেন্ট বা বিকৃতি দেখা দিলে
  • নড়াচড়ার সময় ক্র্যাকিং বা পপিং শব্দ হলে
  • জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও লকিং দেখা দিলে

এসব সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন করানো প্রয়োজন।

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর ব্যথার কারণ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।

রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই জয়েন্টে দীর্ঘদিন ব্যথা বা নড়াচড়ায় সমস্যা থাকলে নিজের মতো চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মূল কথা

অস্টিওআর্থ্রাইটিস শুধু বয়সজনিত সমস্যা নয়। অতিরিক্ত ওজন, পুরোনো জয়েন্টের আঘাত, ফ্র্যাকচার, ডিসলোকেশন, জেনেটিক কারণ এবং কিছু পূর্ববর্তী রোগের কারণে এর ঝুঁকি বাড়তে পারে। জয়েন্টে ব্যথা, শক্তভাব, ফোলাভাব, নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা বা বিকৃতি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Social Icons