GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / ইসলাম ও জীবন / কুলখানির খাবার খাওয়া কি গুনাহ? হাদিসে কী বলা হয়েছে

কুলখানির খাবার খাওয়া কি গুনাহ? হাদিসে কী বলা হয়েছে

মৃত্যুবার্ষিকী, চল্লিশা কিংবা কুলখানির খাবার খেলে মানুষের অন্তর মরে যায়—এমন একটি কথা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কুরআন ও হাদিসে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায় না। আলেমদের মতে, ‘মৃতের খাবার অন্তরকে মেরে ফেলে’—এ কথাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়।

ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজন নিয়ে আপত্তি ও অপছন্দনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এ বিধানের সঙ্গে ওই খাবার খেলে মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দাবির পার্থক্য রয়েছে।

মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন নিয়ে হাদিসে কী আছে?

সুনানে ইবনে মাজাহর ১৬১২ নম্বর হাদিসে সাহাবি জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সমবেত হওয়া এবং দাফনের পর ওই পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করাকে শোক প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন।

অন্যদিকে, হজরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর শাহাদাতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, শোকের কারণে পরিবারটি ব্যস্ত ও বিপর্যস্ত ছিল। এ বর্ণনা সুনানে আবু দাউদ (৩১৩২) ও জামে তিরমিজিতে (৯৯৮) এসেছে।

এ দুটি বর্ণনা থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কুলখানির খাবার খেলে কি গুনাহ হয়?

মৃত্যুবার্ষিকী বা কুলখানির খাবার খাওয়ার কারণে কারও অন্তর মরে যায় কিংবা তিনি অবশ্যই গুনাহগার হন—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

এ ক্ষেত্রে খাবারের উৎস, আয়োজনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত কোনো ধারণার ভিত্তিতে খাবার খাওয়াকে সরাসরি গুনাহ বলা যথাযথ নয়।

তবে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদে নাবালক ওয়ারিশের অধিকার থাকলে, তাঁদের বৈধ অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো আয়োজন করা গুরুতর অন্যায়।

পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নিসার ১০ নম্বর আয়াতে এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাই কোনো আয়োজনের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে এতিম বা অন্য ওয়ারিশদের অধিকার নষ্ট করা যাবে না।

মৃত ব্যক্তির জন্য কী করা উত্তম?

ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-অসহায়দের সদকা দেওয়া উত্তম কাজ।

একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের ওপর আনুষ্ঠানিক ভোজের আর্থিক বা সামাজিক চাপ সৃষ্টি না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। শোকের সময়ে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা এবং তাদের কষ্ট লাঘব করাই গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, কুলখানি বা মৃত্যুবার্ষিকীর খাবার খেলে অন্তর মরে যায়—এমন দাবিকে হাদিসের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। কোনো নির্দিষ্ট আয়োজনের শরিয়তসম্মত বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে আয়োজনের ধরন, অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Social Icons