আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে কী হয়েছিল, তা নিয়ে এতদিনের আলোচনায় এবার নিজের বক্তব্য জানালেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার পর দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, ফাইনালের আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে দলের খেলোয়াড়রা চরম ক্লান্তির মধ্যে ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মাস মনুমেন্তালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। তিনি পেনাল্টি থেকে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান।
ম্যাচ শেষে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন মেসি। সেখানে তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের পথচলা এবং বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন। একই সঙ্গে উঠে আসে স্পেনের বিপক্ষে সেই আলোচিত ফাইনালের প্রসঙ্গ।
ওই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বেশ নিষ্প্রভ দেখিয়েছিল। মেসিও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। ১২০ মিনিট মাঠে থাকার পরও তিনি লক্ষ্যে একটি শট নিতে পারেননি।
ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মেসিকে ‘সবাই শান্ত হও’ বলতে শোনা যায়। এরপরই আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা দলের বিভিন্ন ব্যক্তি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। এবার সেই আলোচনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন মেসিও।
মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বিশ্বকাপের সময় দলকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। আবারও বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে তারা অনেক দূর এগিয়েছিলেন। কিন্তু শিরোপার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারেননি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ বিশ্বকাপে দল অনেক বড় ধকল সামলেছে। পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য ছিল সবার সামনে, আর সেই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে হয়েছে।
মেসির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই দলের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচের ধকল পরবর্তী সময়ে দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন তিনি।
মেসি বলেন, বিষয়টির পেছনে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত চাপের। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নানা ধরনের তত্ত্ব ও গল্প ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবে খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেদের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
তার মতে, সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লড়াই করেছেন।








