কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে প্রেমিক রাজুর কী কথা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন রাজু। তাঁর দাবি, বাড়ি ফিরে প্রধান ফটক বন্ধ পাওয়ার পর তাজমীন তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাজমীনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। এরপর তাজমীন লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন এবং এক ‘আঙ্কেলের’ বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়ে মেসেজ পাঠান।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আটকের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন রাজু। তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাঁদের শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
বাস টার্মিনাল থেকে রিসোর্টে গিয়েছিলেন দুজন
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি তাঁকে গ্রহণ করেন। পরে তাঁরা কলাতলীর ‘মেঘলা’ রিসোর্টের একটি কক্ষে এক দিন ছিলেন।
এ সময় তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বারবার ফোন করছিলেন বলে দাবি করেন রাজু। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাজমীনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন।
রাজু জানান, তাজমীনকে বাড়ি পাঠানোর জন্য তিনি আইকনিক এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে বাসের টিকিট কেটে দেন। পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীন বাসে ওঠেন বলে তাঁর দাবি।
বাড়ির ফটক বন্ধ পেয়ে রাজুকে জানান তাজমীন
রাজুর দাবি, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাজমীন তাঁকে জানান, বাড়িতে পৌঁছে প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছেন। তাঁর বাবার ফোনও বন্ধ ছিল।
এ অবস্থায় রাজু তাঁকে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে অথবা অন্য কারও ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন বলে জানান। পরে তাজমীন এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরবেন বলে তাঁকে জানিয়েছিলেন।
ভিডিও কলে অটোরিকশায় দেখে বকাঝকা করেন রাজু
রাজুর ভাষ্য, পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাজমীনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। তখন তাঁকে বকাঝকা করেন এবং অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলেন।
তবে তাজমীন কল কেটে দিয়ে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেন রাজু।
এরপর তাজমীন তাঁকে একটি মেসেজ পাঠান। রাজুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেসেজে লেখা ছিল, ‘তুমি চিন্তা করিও না, আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছি। সেখানে থেকে কাল বাসায় চলে যাব।’
রাজুর দাবি, পরদিন সকাল ৬টার দিকে আবার ভিডিও কল করলে তাজমীনকে সিএনজিতে দেখতে পান। এ সময় অটোরিকশার চালক জানতে চান, তিনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। তাজমীন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানানোর পর কল কেটে দেন বলে দাবি করেন রাজু।
এরপর আর যোগাযোগ হয়নি, দাবি রাজুর
রাজু জানান, ওই ঘটনার পর তাজমীনের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। পরদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তাজমীনের মৃত্যুর খবর পান।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমীনের সঙ্গে প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিল। তাজমীনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচার দাবি করেছেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাজু
রোববার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, তাজমীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ধানখেত থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাজমীনের মরদেহ
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
তাজমীনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। রাজুর বক্তব্য তাঁর নিজের দাবি হিসেবে এসেছে; ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।









