GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে কক্সবাজার হোটেলে উঠেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, বয়স লেখেন ১৮

‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে কক্সবাজার হোটেলে উঠেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, বয়স লেখেন ১৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে। হোটেলের রেজিস্টারে তাঁর নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর। হোটেলের নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে তাঁর কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার যাত্রা সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তাজমিন রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরদিন বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছাড়েন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স

কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত মেঘলা রিসোর্টের রেজিস্টার অনুযায়ী, তাজমিন সেখানে ‘তানজু আক্তার’ নামে নিবন্ধিত হন। তাঁর বয়স লেখা হয়েছিল ১৮ বছর। সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নিজেকে তাঁর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁরা এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের মুঠোফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্যও লেখা ছিল।

তবে হোটেলে অবস্থান করা এবং পরবর্তী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় দুটি আলাদা। রিয়াজ এ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন বলে তাঁর এক সহকর্মী জানিয়েছেন।

রাজুর সঙ্গে পরিচয় ও কক্সবাজার যাত্রা

রিয়াজের সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় কখন হয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এক সহকর্মীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল প্রায় ১৭ দিন আগে। অন্যদিকে, রিয়াজের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের পরিচয় হয়েছিল প্রায় পাঁচ মাস আগে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের পর তাজমিন কক্সবাজারে যান। রিয়াজ তাঁকে যাতায়াতের জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

কক্সবাজারে যাওয়ার পর তাঁরা একটি বাসের টিকিট কাটেন। কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু তাঁদের কাউন্টারে গিয়ে আইকনিক এক্সপ্রেসের টিকিট বুক করেন। পরদিন তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন রাজু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাস থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠেন তাজমিন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ

পরিবারের সদস্যদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাজমিন মাকে জানিয়েছিলেন, তিনি এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছেন। তবে বান্ধবীর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল বৃহস্পতিবার বিকেলে। তখন তাজমিন জানিয়েছিলেন, তিনি এক বান্ধবীর সঙ্গে আছেন। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসার ইচ্ছা থাকলেও কোথায় আছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাননি তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের ঝগড়া হয়। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বাকি তথ্য জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল। মা অসুস্থ হলে সে তার দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত।

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা, রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাড়ি ফেরার পথে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

Social Icons