GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’—ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলকের মন্তব্য

‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’—ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলকের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে। এ সময় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন।’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করলে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে কম কথা বলতে বলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বাদানুবাদ

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।’

এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া আসামির এভাবে কথা বলা উচিত নয়। আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা তাঁদের আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলককে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ কথা বলতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে উল্লেখ করে বিচারক বলেন, এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কেউ যেন কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে না নেন।

সাক্ষীর উদ্দেশে পলকের মন্তব্য

সাক্ষ্যগ্রহণের আরেক পর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন। সেখানে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গও আসে।

প্রসিকিউশন জানায়, বিষয়টি মামলার মূল অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। এ কারণে ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয় এবং সাক্ষীও তাতে সম্মতি দেন।

এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ পরে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।’

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ বা স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করতে হবে।

জয় ও পলকের পক্ষে আইনজীবী

মামলায় পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ আইনি লড়াই চালান। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে নিয়োগ করা আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

কী অভিযোগ রয়েছে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে?

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগের মধ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

Social Icons