বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, এই ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যে যতই চেষ্টা করুক, আইন, আদালত দিয়ে যা চেষ্টা করুক, কোনোভাবে এটি মুছে ফেলা যাবে না।’
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও দেশের মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি। বরং দেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার দাবি, জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, ‘হোয়াট ইজ ডান কান্ট বি আনডান।’ অর্থাৎ জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, সেটি কেউ আর কোনোভাবে পাল্টে দিতে পারবে না।
জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশেও তার ভূমিকা ছিল। তার ভাষ্য, জিয়াউর রহমান রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে গিয়েছিলেন।
খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিএনপি, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার দাবি, খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
দেশের নারী জনগোষ্ঠীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা জরুরি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশে নারীদের শিক্ষা ফ্রি করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, তা টেকসই করতে হবে। মানুষের কথা বলার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা হচ্ছে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। তার দাবি, খালেদা জিয়াই দেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করেছিলেন।
এর আগে নেতাকর্মীদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু করে দলটি। শনিবারের আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এবারের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষ হচ্ছে।

