GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / হুথিদের হামলার মুখে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে সৌদি?

হুথিদের হামলার মুখে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে সৌদি?

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হুথিদের ধারাবাহিক হামলা, তেল পরিবহনে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইসরাইলের সঙ্গে সীমিত নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এখনো বড় রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সৌদি আরবের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিনও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার খবর আসে। এসব ঘটনায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

তেল পরিবহন ব্যবস্থাও চাপের মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সেই ব্যবস্থাতেও হামলার খবর এসেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের তৎপরতা দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য শুধু নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদার করাই যথেষ্ট নয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহযোগী দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

এখানেই ইসরাইলের প্রসঙ্গ সামনে আসছে। ইরান ও হুথিদের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আকাশ প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইসরাইলের স্বার্থের কিছু মিল রয়েছে। ফলে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করেও সীমিত পর্যায়ে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন কতটা সরাসরি যুক্ত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ অক্টোবর সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেন। ওয়াশিংটনের ভূমিকা স্পষ্ট না হলে রিয়াদকে বিকল্প নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ খুঁজতে হতে পারে।

তবে সৌদি আরবের সামনে শুধু ইসরাইলই একমাত্র সম্ভাব্য অংশীদার নয়। পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গেও দেশটির প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে রিয়াদকে এসব সম্পর্কের পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নই বড় বাধা

ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধাগুলোর একটি। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হলে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, ইসরাইলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার কারণে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ নয়। সৌদি জনগণের মনোভাবও দেশটির নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে নিরাপত্তার প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লেও তা দ্রুত আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সীমিত নিরাপত্তা সমন্বয় এবং পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এক বিষয় নয়।

সৌদি আরবের সামনে কোন পথ খোলা?

বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে হুথিদের সামরিক তৎপরতা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা, তেল পরিবহনের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে রাজনৈতিক অগ্রগতি।

ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো সৌদি আরবের জন্য সম্ভাব্য একটি কৌশল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রিয়াদ ইতিমধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা চাহিদা এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় বিষয়। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

Social Icons