GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি / স্মার্টফোন ছেড়ে বাটনফোনে ফিরলে জীবন কি বদলে যায়?

স্মার্টফোন ছেড়ে বাটনফোনে ফিরলে জীবন কি বদলে যায়?

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে মুক্তি পেতে বাটনফোনে ফিরে গেছেন নিউইয়র্কের দৃশ্যশিল্পী ও প্রযুক্তিসচেতন সমাজকর্মী আগস্ট লাম। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছেড়ে সাধারণ ফোন ব্যবহার শুরু করার পর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, মনোযোগ বেড়েছে এবং নিজের জন্য সময় বের করা সহজ হয়েছে।

সারাক্ষণ মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন ও অনলাইন খবর দেখার অভ্যাস অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি স্মার্টফোনে স্ক্রল করতে গিয়েও চলে যায় দীর্ঘ সময়। এই অভ্যাস থেকে বের হওয়ার বিকল্প হিসেবে বাটনফোন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন আগস্ট লাম।

কেন স্মার্টফোন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আগস্ট লাম?

স্মার্টফোনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় কাটানোর বিষয়টি একসময় আগস্ট লামের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনের পেছনে সময় দিতে গিয়ে নিজের সৃজনশীল কাজের ক্ষতি হচ্ছে। এরপর ২০২২ সালে ২৭তম জন্মদিনের পর তিনি স্মার্টফোন ব্যবহার ছেড়ে সাধারণ ফ্লিপ ফোন বেছে নেন।

নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি লিখেছেন You Don’t Need a Smartphone: A Practical Guide to Downgrading Your Phone and Upgrading Your Life বইটি। এতে স্মার্টফোনের ব্যবহার কমানোর কারণ, সাধারণ ফোনে অভ্যস্ত হওয়ার উপায় এবং এ ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরেছেন তিনি।

স্মার্টফোন ছাড়লে সম্পর্ক আরও গভীর হয়?

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগস্ট লাম জানান, স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে তাঁর আশঙ্কা ছিল, এতে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত খবর জানতে না পারার বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়েছিল।

কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা হয়েছে ভিন্ন। লাম জানান, ফোনের ব্যবহার কমানোর পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বেড়েছে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সামনাসামনি কারও সঙ্গে কথা বলার সময় ফোনের দিকে মনোযোগ দিতে হয় না। ফলে অন্য ব্যক্তির কথা মন দিয়ে শোনা এবং কথোপকথনে পুরোপুরি যুক্ত থাকা সহজ হয়।

সাধারণ ফোন ব্যবহারের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা গ্রুপ চ্যাটের ওপর নির্ভর করাও কমেছে। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সরাসরি ফোন করা কিংবা সামনাসামনি দেখা করার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

মন খারাপ হলে ফোনের বদলে কী করবেন?

অনেকেই একঘেয়েমি, একাকিত্ব বা মানসিক চাপ অনুভব করলে স্মার্টফোন হাতে তুলে নেন। আগস্ট লামের মতে, এই অভ্যাস কমাতে বিকল্প কিছু কার্যক্রম বেছে নেওয়া যেতে পারে।

তাঁর পরামর্শ হলো, মন খারাপ হলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা, বই পড়া, হাঁটতে বের হওয়া কিংবা গান শোনার মতো কাজে সময় দেওয়া। এতে ফোনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নিজের অনুভূতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

লাম মনে করেন, অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে যেতে সব সময় ফোনের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখা এবং তা সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্মার্টফোন ছাড়লে কি সময় বাঁচে?

স্মার্টফোনের একটি বড় সুবিধা হলো দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ সহজে করা। তবে একই ডিভাইসে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনের সুযোগ থাকায় অনেক সময় অজান্তেই দীর্ঘক্ষণ স্ক্রল করা হয়।

আগস্ট লামের মতে, দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস মিলিয়ে অনেকটা সময় চলে যায়। অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমাতে পারলে সেই সময় অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কিছু কাজ অনলাইনে না করে সরাসরি গিয়ে করলেও নতুন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। হাঁটাহাঁটি, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বাইরের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, ব্যস্ত দিনের মধ্যেও ব্যক্তিগত সময় বের করা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে উদ্বেগ

ডিজিটাল পর্দার সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। মূল প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টার বেশি সময় বিভিন্ন ডিজিটাল পর্দায় কাটায়।

তবে স্ক্রিন টাইমের প্রভাব নির্ভর করতে পারে ব্যবহারের ধরন, সময় এবং ব্যক্তির বয়সের ওপর। তাই সব ধরনের স্মার্টফোন ব্যবহারকে ক্ষতিকর বলা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, শিক্ষা, কাজ ও স্বাস্থ্যসেবায় স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্মার্টফোন ছাড়া কি চলা সম্ভব?

স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য আগস্ট লাম অন্তত এক মাস সাধারণ ফোন ব্যবহার করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, চেষ্টা না করে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন হবে, তা বোঝা কঠিন।

তবে যাঁদের কাজ, যোগাযোগ বা চিকিৎসার জন্য স্মার্টফোন প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে ফোন ছেড়ে দেওয়া সব সময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। লাম তাঁদের জন্য বিকল্প হিসেবে সাধারণ ফোনে দৈনন্দিন যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার এবং স্মার্টফোনকে নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কাজে সীমিত রাখার কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে, স্মার্টফোন ছেড়ে বাটনফোনে ফিরে যাওয়াই সবার জন্য একমাত্র সমাধান নয়। তবে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা, স্ক্রিন টাইমের সীমা নির্ধারণ এবং সামনাসামনি যোগাযোগে সময় দেওয়ার মতো অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য আনতে পারে।

Social Icons