GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / জীবনযাপন / অন্যান্য / বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪২০৬ ডলার

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪২০৬ ডলার

ডলারের দর কিছুটা কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৩০ ডলারে দাঁড়ায়।

ডলারের দরপতনে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, ডলারের মূল্য কিছুটা কমে আসা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

ওয়াটারার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কমেছে তেলের দাম

রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তির বিস্তারিত বিষয় জানার অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিটির দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেলের দামের পরিবর্তন মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। আর মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ধারণা স্বর্ণের বাজারেও প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এসব তথ্যের মাধ্যমে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে চান।

বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) এবং খুচরা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না এমন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। অন্যদিকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ ধরে হিসাব করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থাও কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের মনোভাব আরও নেতিবাচক হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক আরও কমে যায়।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট সিলভারের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১.১২ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৪.৭০ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬১.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করতে পারে ডলারের মূল্য, তেলের বাজার, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

Social Icons