পৃথিবীর আলো দেখার পর একটি শিশুর প্রথম চাওয়া নিরাপদ আশ্রয় ও স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন দেশের অভিভাবকেরা। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর আনন্দের হাসি ফুটলেও, তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে জন্মদাতার কপালে।
সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের একাধিক পিতা জানান, কন্যাসন্তানকে শিক্ষিত ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা থাকলেও প্রধান দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা। দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের যে হার, তাতে কন্যাসন্তানকে কতটা নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে—তা নিয়ে সংশয় কাটছে না তাঁদের।
নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ
মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়া মেয়েটি ভবিষ্যতে হয়তো চিকিৎসক কিংবা শিক্ষক হবেন, অথবা বাল্যবিয়ে ও নির্যাতনের শিকার হবেন—এমন অনিশ্চয়তা ঘিরে রাখে পরিবারগুলোকে।
স্কুলপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মা নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বাচ্চাদের কখন কার জীবনে কী আসবে, এটা বলা কঠিন। অভিভাবক হিসেবে আমি শুধু সন্তানের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা চাই।”
আইন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
পত্রপত্রিকায় প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত দীর্ঘ করছে নিগ্রহের পরিসংখ্যান। শিশুদের ওপর এমন নির্যাতন ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পেছনের কারণ বিশ্লেষণে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান জানান, শিশু সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি থাকায় অপরাধীদের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার না হওয়া কিংবা বিচারে বিলম্বের কারণে সমাজে অপরাধ করে ছাড় পাওয়ার এক ধরণের সংস্কৃতি (ক্লাইমেট অব ইমপিউনিটি) তৈরি হচ্ছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে শিশুরা।
অন্যদিকে, এমএফএসটিসি অ্যান্ড এমসিএইচ হাসপাতালের পরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যেকোনো অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের মা এবং তাঁর মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে।
কন্যাশিশুর জন্মের সঙ্গে নতুন এক সম্ভাবনার সূচনা হয়। তবে বাল্যবিবাহ, ভঙ্গুর সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বাধা দূর করতে পারলে কন্যাশিশুরা দেশের অন্যতম শক্ত সম্পদে পরিণত হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও বিশেষজ্ঞরা।

