সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আবাসন ও সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিকে ওই হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন দেশে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান দেশে ফেরা যাত্রীরা। ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁদের অভ্যর্থনা জানান ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
রিয়াদে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা হামলার শিকার হয়। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন বাংলাদেশের ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাফেলার দলনেতা বা ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ঘটনায় কাফেলার আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
হামলার খবর পাওয়ার পর ধর্মমন্ত্রী কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালেও মন্ত্রী তাঁদের নিয়মিত খোঁজখবর নেন।
হামলায় যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের আপ্যায়ন ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।
নিহতের পরিবারের আবাসন ও শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস
নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের খোঁজ নিতে গত ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল তাঁর বাড়িতে যায়। মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে দলটি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানায়।
এ সময় নাসরুল্লাহর মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে ধর্মমন্ত্রী নাসরুল্লাহর মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।
বিমানবন্দরে ৩৩ যাত্রীকে অভ্যর্থনা
হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে দেশে ফেরেন। রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাঁদের বহনকারী সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান।
ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে মন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁরা বিমানবন্দরে এসেছেন। দেশে ফেরা যাত্রীদের জন্য ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছেন। তাঁদের নিজ নিজ মাদ্রাসা ও বাসায় নিরাপদে পৌঁছে দিতে পরিবহনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়েও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীরা।
ওলামায়ে কেরামের পক্ষে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে কাফেলার সদস্যরা তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
যাত্রীরা জানান, সৌদি আরবে হামলার পর ধর্মমন্ত্রী নিয়মিত তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন এবং দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেছেন।
এ ছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতিও তাঁরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিমানবন্দরে জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









