কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের অন্তত পাঁচ মিনিটের যাত্রাবিরতি এবং আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, চকরিয়ায় ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করা মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
চকরিয়া স্টেশনে ট্রেন থামানোর দাবি
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশের নানা স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় তাঁরা রেলসেবার প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
ট্রেনে যাতায়াত করতে অনেক যাত্রীকে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ—দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আয়োজকদের মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে চকরিয়া ও আশপাশের আট উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে।
অন্তত পাঁচ মিনিট ট্রেন থামানোর আহ্বান
মানববন্ধনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী।
তিনি বলেন, চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনস্বার্থে অবিলম্বে চকরিয়া রেলস্টেশনে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ইউসুফ বদরী ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোকে অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য চকরিয়া স্টেশনে থামানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এ দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মানববন্ধনের আয়োজকদের পক্ষে মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদও একই দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, চকরিয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে আশপাশের আট উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
মানববন্ধনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চকরিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছায়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কিংবা রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আট উপজেলার যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় পর্যটননগরী কক্সবাজারের মানুষ উপকৃত হলেও চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা, আলীকদম ও বাঁশখালীসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এসব এলাকার যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে কক্সবাজার সদর কিংবা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয়দের মতে, চকরিয়া রেলস্টেশনে মাত্র কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতি চালু করা গেলে আশপাশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি রেলসেবার আওতায় আসবেন। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আসন বরাদ্দের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।









