নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুরে তাঁর নিজ বাসা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তবে নুরুজ্জামান মিন্টুকে এখনো গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, শাকিল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তাঁরা শাকিল হত্যার ঘটনায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে দায়ী করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কিংবা মিন্টুর বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
## জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নুরুজ্জামান মিন্টু
পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে গুরুদাসপুরে তাঁর নিজ বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।
নাটোর ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিন্টুকে হেফাজতে নেওয়া হলেও তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। অর্থাৎ, এ পর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে; তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে ভিন্ন কোনো তথ্য নেই।
শাকিল ইসলাম হত্যার তদন্তে এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে নুরুজ্জামান মিন্টুকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিংবা তদন্তে তাঁর বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
## শাকিলের মৃত্যুর পর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
শাকিল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতেই গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য নুরুজ্জামান মিন্টুকে দায়ী করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।
শাকিলের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে বিক্ষোভে করা অভিযোগ এবং তদন্তে প্রমাণিত তথ্য এক বিষয় নয়। শাকিল হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
## ১৪ অক্টোবর রাতে শাকিলের ওপর হামলা
গত ১৪ অক্টোবর রাতে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি।
হামলাকারীরা প্রথমে শাকিলকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এরপর হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলার পর স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ওই রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
## ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু
হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই শাকিল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালান। কিন্তু টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি আরও জোরালো হয়।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
## ঘটনার পাঁচ দিন পর মামলা করেন শাকিলের বাবা
শাকিলের ওপর হামলার পাঁচ দিন পর, গত ১৯ অক্টোবর তাঁর বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
তবে মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের পরিচয় এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ কারণে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
## তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাচ্ছে না পুলিশ
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী, শাকিল ইসলাম হত্যার মামলায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় বা অন্যান্য তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শাকিলের পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের করা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্যও প্রতিবেদনে নেই।
তাই মামলার প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
## শাকিল হত্যার ঘটনায় বিচার দাবি
শাকিল ইসলামের মৃত্যুর পর গুরুদাসপুরে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
শাকিলের বাবা রবিউল করিমের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ। হামলার সময় হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে। তবে হামলার পেছনের কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি থেকেই পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
## শেষ কথা
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম ১৪ অক্টোবর হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২৬ অক্টোবর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে সোমবার রাতে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে এখনো গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
শাকিলের মৃত্যুর পর ছাত্রদল নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
**সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন অবলম্বনে।**








