ক্রিকেটে সাধারণত হাফ সেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরির মতো মাইলফলক ছুঁলেই ব্যাট তুলে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন ব্যাটাররা। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম রান নেওয়ার পরই ব্যাট তুলে উদযাপন করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাস। টানা চার ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর রানের খাতা খুলতে পারার স্বস্তিই তার এই উদযাপনের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবারের ম্যাচে লিটনের শুরুটা ছিল বেশ চাপের। আগের তিন ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছিলেন তিনি। এর সঙ্গে এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচেও শূন্য রানে আউট হন এই ব্যাটার। ফলে টানা চার ইনিংসে কোনো রান করতে পারেননি তিনি।
অথচ এর ঠিক আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। সেই ধারাবাহিকতার পর একের পর এক শূন্য রানে আউট হওয়া তার জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
প্রথম রানেই কেন উদযাপন?
আফগানিস্তানের বোলার ইয়ামিন আহমদজাইয়ের করা একটি গুড লেংথের বল ব্যাটের কানায় লেগে ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে চলে যায়। সুযোগ বুঝে এক রান নেন লিটন। রানের খাতা খোলার পরই ব্যাট তুলে প্যাভিলিয়নের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন তিনি।
তার এই উদযাপন মনে করিয়ে দিয়েছে ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির একটি ঘটনার কথা। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর প্রথম রান করেই উদযাপন করেছিলেন কোহলি। শূন্যে ঘুষি ছুড়ে এবং হাসিমুখে নিজের স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
লিটনের ক্ষেত্রেও প্রথম রানটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টানা চার ইনিংসে শূন্যের পর অবশেষে রানের খাতা খুলতে পেরে তার উদযাপনে সেই চাপমুক্তির ছাপ দেখা গেছে।
ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়ালেন লিটন
শুধু প্রথম রানেই থেমে থাকেননি বাংলাদেশের এই ব্যাটার। পরবর্তী সময়ে দলের ইনিংস সামলানোর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্কোর ২২৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর ইনিংস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে লিটন দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেন এবং হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
ফিফটি পূর্ণ করার পর আবারও ব্যাট তুলে উদযাপন করেন তিনি। তার গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বাংলাদেশ ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
টানা চার ইনিংসে শূন্যের পর প্রথম রান পাওয়ার স্বস্তি থেকে শুরু করে হাফ সেঞ্চুরি পর্যন্ত লিটনের এই ইনিংস বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।









