ইরানের বিরুদ্ধে রোববার কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর আপাতত হামলা না চালানোর কথা জানান তিনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার মিশিগানে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ওই দিন ইরানে হামলা চালানো হবে না।
হুমকির পর হামলা না চালানোর ঘোষণা
রোববার সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে কি না। জবাবে তিনি জানান, সেদিন কোনো হামলা হবে না।
তবে এই বক্তব্যকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তাই আপাতত হামলা না চালানোর ঘোষণা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না।
ইরানকে নিয়ে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের
এর আগে রোববার দিনের প্রথম ভাগে ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর বক্তব্য দেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে—এটাই এখন মূল প্রশ্ন।
এর আগের দিন শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে অথবা তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।
তবে ইরান সম্ভাব্য কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও উঠে আসে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং ইরান সেখান থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌপরিবহন ও তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
আগেও ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত
নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তার সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচনি বিবেচনা কাজ করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের সম্পর্ক, সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
সব মিলিয়ে, কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর রোববার ইরানে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এটিকে স্থায়ীভাবে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে, নাকি নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন।









