ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কৌশল ও তিনটি সম্ভাব্য লক্ষ্য তুলে ধরেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য চাপ অব্যাহত রেখে দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান থেকে বেশিরভাগ ফ্লাইট বন্ধ
ইরান থেকে বিদেশগামী বেশিরভাগ বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন বেসেন্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘে থাকা ইরানি প্রতিনিধিরা কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত নন।
তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে যা বললেন
ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার খবর প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, বেশিরভাগ ট্যাংকার স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।
তবে ইরানের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বেসেন্ট বলেন, তাদের কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তিন লক্ষ্য
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসেন্ট তিনটি সম্ভাব্য ফলাফলের কথা উল্লেখ করেন।
প্রথমত, শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন:
বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপের একটি সম্ভাব্য ফল হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জনগণের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান:
তার বক্তব্যে ইরানের জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ:
ইরান যদি কোনো চুক্তিতে যেতে চায়, তাহলে দেশটিকে সেই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করাও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেসেন্ট।
চাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত
বেসেন্টের বক্তব্যে একদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও আইনি চাপ অব্যাহত রাখার কথা এসেছে, অন্যদিকে ইরান চুক্তিতে যেতে চাইলে তা বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এসব লক্ষ্য ও সম্ভাব্য ফলাফল বেসেন্টের সাক্ষাৎকারে দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এগুলো বাস্তবে কীভাবে এবং কতটা কার্যকর হবে, তা পরিস্থিতির পরবর্তী developments-এর ওপর নির্ভর করবে।









