নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরও অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে না। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও যদি দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকে, তাহলে এর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত তিনটি ওষুধ ব্যবহারের পরও রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমি পারদ বা তার বেশি থাকলে তাকে ‘রেসিস্ট্যান্ট হাইপারটেনশন’ বলা হয়। এ অবস্থায় হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন ওষুধ সঠিক নিয়মে বা সঠিক মাত্রায় না খাওয়া, ভুলভাবে রক্তচাপ মাপা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অতিরিক্ত ওজন, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া, কিডনির সমস্যা কিংবা অন্য কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার পেছনে হরমোনের প্রভাবও থাকতে পারে। বিশেষ করে অ্যালডোস্টেরন হরমোন অতিরিক্ত তৈরি হলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমতে পারে, যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তনও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে লবণ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এতে সহায়তা করতে পারে।
তবে এসব মেনে চলার পরও যদি রক্তচাপ বারবার বেশি থাকে, তাহলে নিজের মতো করে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ শুধু রক্তচাপের সংখ্যা কমানো নয়, এর পেছনে থাকা কারণ শনাক্ত করাও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই হৃদপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন এবং দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।






