GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / গণতন্ত্রকে বাঁচাতে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্রকে বাঁচাতে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্রের মূল শক্তি গণমাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি। এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার পরও পুরোনো মানসিকতা থেকে গেলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করব।’

সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা বন্ধ পত্রিকাগুলো চালু করা গেলে অন্তত ১,০০০ সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না।’ মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে গণমাধ্যমের দায়িত্বও বেড়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে তিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে প্রেসক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।

সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান তিনি।

সাক্ষাৎকালে প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে সাংবাদিক নেতারা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চাইলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে বখতিয়ার রাণা, কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Social Icons