সরকারের নীতি-নির্ধারণী কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে রেখে কাজের গতি মন্থর রাখার অভিযোগ উঠেছে।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বারবার নির্দেশ ও তাগাদা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের সিদ্ধান্তহীনতা ও টালবাহানায় দীর্ঘসূত্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে সাধারণ নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল মাসের পর মাস এক টেবিলেই পড়ে থাকছে।
এর ফলে নির্বাচনি এলাকায় কাজের গতি হারিয়ে জবাবদিহির মুখে পড়ছেন রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা, যা নিয়ে মন্ত্রী ও এমপিদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে বিপিএটিসি ও বিসিএস একাডেমির প্রশিক্ষণ মডিউল আধুনিকীকরণ জরুরি।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, সংসদকে শক্তিশালী করে এ ধরনের উদাসীনতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক কর্তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, রাজনৈতিক আনুকূল্য ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অদক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন করায় আমলাতন্ত্রে এ চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের সঠিক স্থানে বসানো না গেলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বীকার করেন যে রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ফাইল নিষ্পত্তি না করা সরকারি আদেশের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে সচিবালয়ের কাজের গতি বৃদ্ধি করতে শীঘ্রই সব সচিবকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক নজরদারি জোরদার করা হবে।



