স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও রোগমুক্ত শরীরের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ডায়েটে বৈচিত্র্য আনার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন, যা সংক্ষেপে ‘ইট দ্য রেইনবো’ নামে পরিচিত।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের প্রাকৃতিক ফলমূল ও শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করাই হলো এই ডায়েট অনুসরণের মূল মন্ত্র।
উদ্ভিদের ভিন্ন ভিন্ন রঙের পেছনে কাজ করে বিশেষ প্রাকৃতিক পিগমেন্ট বা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যাতে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ভিটামিন, খনিজ ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
লাল রঙের খাবার যেমন টমেটো ও তরমুজে থাকা লাইকোপেন হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে এবং ত্বকে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
কমলা ও হলুদ রঙের ফলমূল ও সবজিতে থাকা ক্যারোটিনয়েড চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে কমায়।
সবুজ শাকসবজিতে উপস্থিত ক্লোরোফিল ও ফলেট হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, অন্যদিকে নীল ও বেগুনি খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গাঢ় লাল বিট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে এবং সাদা-বাদামি ঘরানার ফুলকপি ও রসুন শরীরের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় কৃত্রিম খাবারের বদলে প্রাকৃতিক এই রঙিন বৈচিত্র্য ধরে রাখা দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও নিরোগ থাকার অন্যতম প্রধান উপায়।
বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি মূল খাবারে অন্তত তিনটি ভিন্ন রঙের ফল বা শাকসবজি রাখা এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ভাপানো বা রোস্টিং পদ্ধতিতে রান্নার তাগিদ দিয়েছেন।
তাছাড়া প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্সের বদলে ফলমূলের সালাদ বা তাজা সবজির স্টিক দিয়ে হালকা নাশতা তৈরি দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকরী।


