গাজায় সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ঘিরে ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পাওয়া তথ্যচিত্রটির দুই ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল সোরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সড়কে নির্মাতাদের একটি দেয়ালচিত্রে অবমাননাকর বক্তব্য লেখা হয়েছে। সেখানে তাঁদের ছবির পাশে লাল রঙের টার্গেট চিহ্ন আঁকা হয়। আশদোসহ বিভিন্ন এলাকাতেও তাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনীর পর প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল।
গাজায় বেসামরিক হত্যার অভিযোগ নিয়ে তথ্যচিত্র
‘নাজা’ তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সূত্রের বক্তব্য ব্যবহার করে গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় চালানো হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটির নাম একটি হিব্রু গোয়েন্দা পরিভাষা থেকে নেওয়া। ওই পরিভাষাটি নির্দিষ্ট কোনো বিমান হামলায় আনুমানিক কতজন বেসামরিক মানুষ নিহত হতে পারেন, তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
তবে তথ্যচিত্রে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এড়াতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালায়।
নির্মাতা ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি
তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর নির্মাতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একের পর এক হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
মধ্য ইসরায়েলের সায়ভন এলাকায় রাচেল সোরের বাড়ির বাইরেও ডানপন্থীদের বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে তাঁর মা-বাবাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মানহানি করেন এমন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন আইন আনার কথা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা
তথ্যচিত্রটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে বিষয়টি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্মাতাদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, মুক্তবাক স্বাধীনতা ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি আন্দোলন **‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’**ও তথ্যচিত্রটির প্রশংসা করেছে। তাদের বক্তব্য, তথ্যচিত্রটি গাজায় চলমান যুদ্ধের আরেকটি ভয়াবহ অধ্যায় তুলে ধরেছে।
