দিনভর ব্যস্ততার পর এক কাপ গরম চা অনেকের কাছেই স্বস্তির। তবে গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, চা পান করা যাবে কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থাকলেও সাধারণত চা পান করা যায়। তবে চায়ে কী যোগ করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, ঘন দুধ বা চর্বিযুক্ত উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার কী?
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারকে মাইল্ড সিম্পল হেপাটিক স্টিয়াটোসিস বলা হয়। এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রাথমিক পর্যায়।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্ল্যাক টি কি পান করা যায়?
ব্ল্যাক টি বা কালো চায়ে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞের মতে, ফ্যাটি লিভারের জন্য ব্ল্যাক টি নিজে দায়ী নয়। বরং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা ঘন দুধ যোগ করার বিষয়টি এড়িয়ে চলা ভালো।
অতিরিক্ত চিনি কেন সমস্যা তৈরি করতে পারে?
অতিরিক্ত চিনি শরীরে বাড়তি ক্যালোরি ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বাড়ায়। ফ্রুক্টোজের বড় একটি অংশ লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং অতিরিক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লিভারে চর্বি তৈরির প্রক্রিয়া বাড়তে পারে।
তাই ফ্যাটি লিভার থাকলে নিয়মিত বেশি চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
লিভারবান্ধব চা কীভাবে বানাবেন?
চিনি কমান বা বাদ দিন: সাদা চিনি, ব্রাউন সুগার ও কনডেন্সড মিল্ক এড়িয়ে চলুন।
মসলা যোগ করতে পারেন: চায়ের স্বাদ বাড়াতে আদা, এলাচ, লবঙ্গ বা দারচিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করুন: ফুল-ক্রিম দুধের পরিবর্তে স্কিমড বা লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। চিনি ছাড়া আমন্ড বা সয়া মিল্কও ব্যবহার করা যায়।
চা তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনুন: চা পাতা ও মসলা গরম পানিতে ভিজিয়ে নেওয়ার পর অল্প দুধ যোগ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত চিনি দিয়ে দীর্ঘসময় ফুটিয়ে চা তৈরি না করাই ভালো।
তবে ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে শুধু চা নয়, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন, শারীরিক সক্রিয়তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।








