ঋতু পরিবর্তনের আবহাওয়ায় দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ভাইরাসজনিত জ্বর, হাঁচি, সর্দি ও কাশির প্রকোপ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এমনকি পুরো পরিবারই একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রকৃতির এই রূপবদলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর আক্রমণও, যার ফলে অনেককে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা করে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।
ভাদ্র-আশ্বিন মাসের এই সন্ধিক্ষণে দিনের বেলা তীব্র গরম এবং রাতে বা ভোরে হালকা ঠান্ডার অস্বাভাবিক ওঠানামার কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও রাইনোভাইরাসের সংক্রমণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোগী সেবা ও গৃহস্থালি কার্যক্রমে তৈরি হচ্ছে চরম ভোগান্তি; বাধ্য হয়ে অনেকে গ্রাম থেকে আত্মীয়স্বজন এনে সেবা নিচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ভাইরাল জ্বর এবং ডেঙ্গুর প্রারম্ভিক উপসর্গ প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়েন এবং পরীক্ষা করাতে দেরি করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার সৃষ্টি করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুল হুদা চৌধুরী পরামর্শ দিয়েছেন, জ্বর দেখা দেওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘এনএস১ অ্যান্টিজেন’ (NS1 Antigen) পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, যেন ডেঙ্গু হলে শুরুতেই সঠিক পর্যবেক্ষণ চালু করা সম্ভব হয়।
এর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কারের ওপর জোর দিয়েছেন।
