GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / নগর-মহানগর / চট্টগ্রামে মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামে মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর নির্জন স্থানে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ইয়াবা ও নগদ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আকবরশাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী সোহেল হাওলাদারের দাবি, পুলিশের একটি দল তাঁকে ভয় দেখিয়ে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ও ৮১ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে তাঁর কাছ থেকে কোনো ইয়াবা বা টাকা নেওয়া হয়নি, এমন বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম ডিসি পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার এলাকা থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘এসপি গ্রিনলাইন’ বাসে ওঠেন সোহেল হাওলাদার। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার সরিষাবাড়ি গ্রামে।

বাসটি সিটি গেট এলাকায় পৌঁছালে আকবরশাহ থানার পুলিশের একটি দল তল্লাশির জন্য সেটি থামায়। পরে সোহেলকে বাস থেকে নামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হয়। তবে তাঁর শরীরে কিছু না পেয়ে পুলিশ তাঁকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর এক্স-রে করানোর জন্য সিটি গেটসংলগ্ন গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্স-রে পরীক্ষায় সোহেলের বিশেষ অঙ্গের স্থানে কিছু বস্তু দেখা যায়। বিষয়টি এক কনস্টেবল এসআই রবিউলকে জানান। তখন তিনি পুলিশের গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে তিনি এক্স-রে কক্ষে যান। পরে সোহেলকে নিয়ে নিচে নামেন তাঁরা। এ সময় কনস্টেবল হালিম তাঁর কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।

এরপর সিএমপির গাড়িতে করে সোহেলকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় পুলিশ।

নির্জন স্থানে নিয়ে ইয়াবা ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সোহেলের অভিযোগ, গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে করে টোল রোডের ডিসি পার্কসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে শরীরের ভেতরে কী আছে, তা বের করে দিতে বলা হয়।

সোহেলের দাবি, প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের কাছে থাকা ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৮১ হাজার টাকা পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। তবে তিনি পালিয়ে না গিয়ে এসআই রবিউলের পা ধরে জীবন ভিক্ষা চান বলে জানান।

পরে তাঁকে নগরীর একে খান মোড়ের আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আবার এক্স-রে করানো হয়। ওই পরীক্ষার প্রতিবেদনে আর কিছু পাওয়া যায়নি বলে সোহেলের দাবি।

অন্যদিকে গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে অপারেটর আপেল মোহাম্মদ জানান, সোহেলের শরীরের বিশেষ অঙ্গের স্থানে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের প্যাকেট দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর তাঁরা ওই ব্যক্তিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

নেওয়া হয় স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও

আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হওয়ার পর আবারও তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় বলে জানান সোহেল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাঁকে শেষ সুযোগ দেওয়ার কথা বলে। এরপর তাঁর কাছ থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার করা হয়নি এবং পুলিশ তাঁর কাছ থেকে কিছু নেয়নি, এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ করেন কনস্টেবল হালিম।

সোহেলের দাবি, পরে তাঁর মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দেওয়া হলেও সিমগুলো রেখে দেওয়া হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফৌজদারহাট নার্সিং কলেজের সামনে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ডিউটিতে ছিলেন এসআই রবিউল

আকবরশাহ থানার ডিউটি বণ্টন তালিকা অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর দায়িত্বে ছিলেন এসআই রবিউল হোসেন। তাঁর সঙ্গে একজন গাড়িচালক কনস্টেবল হালিমসহ আরও তিনজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সোহেলকে আটক করা থেকে ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই দলের সঙ্গে একজন বহিরাগত সোর্সও ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার এসআইয়ের

এসআই রবিউল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুগান্তরকে তিনি বলেন, সন্দেহজনক আচরণের কারণে বাস থেকে এক ব্যক্তিকে নামিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করানো হয়েছিল। পরে কিছু পাওয়া যায়নি, এমন বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে আর কিছু ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

Social Icons