GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানকে বাংলাদেশের কয়েক দশকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বকে এখন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের অঙ্গীকারের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলওয়ে, যোগাযোগ অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। সফরকালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কথাও জানান তিনি।

## বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান

যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্কের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আস্থার ভিত্তি। তাঁর মতে, এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়ে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য সব সময় একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে দুই দেশই নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

## বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সহযোগিতা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি ছিল জাপান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই দীর্ঘ সহযোগিতার অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে এখন অর্থনীতি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় জাপানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থা ও সহযোগিতা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

## টোকিওতে দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

মঙ্গলবার সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি খাত, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও যোগাযোগ অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়েছে। আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

## জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ

বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে জ্বালানি খাত অন্যতম। টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জ্বালানি খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, শিল্পোৎপাদন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই এ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রথম দিনের বৈঠকগুলোতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে জাপানি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে জ্বালানি খাতে কোন প্রকল্পে কত বিনিয়োগ হবে, কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা কী হবে—এসব বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

## আইসিটি ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতেও বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোগ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে সফরসংক্রান্ত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

জাপানের উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

তবে আইসিটি খাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

## রেলওয়ে, যোগাযোগ অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রেলওয়ে ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, পরিবহন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। তাই রেলওয়ে ও অন্যান্য যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের উন্নয়ন-অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একইভাবে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উঠে আসায় অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা আবারও সামনে এসেছে।

তবে কোন রেল প্রকল্প বা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনার পূর্ণ বিবরণ যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

## জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে জাপানের উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাময় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময়ে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার এমন উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মাধ্যমে দুই দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু অর্থায়ন নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়লে ব্যবসায়িক সহযোগিতার পরিসর বিস্তৃত হতে পারে এবং দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রণোদনা, বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কিংবা চূড়ান্ত হওয়া প্রকল্পের আর্থিক বিবরণ সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

## সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যৌথ অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।

বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীল উদ্যোগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই জাপানি উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার এমন ব্যবসায়িক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেগুলো দুই দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

## সফরকালে একাধিক সমঝোতা স্মারক বিনিময়

জাপান সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে কোন কোন খাতে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত বা বিনিময় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। ফলে সমঝোতা স্মারকগুলোর সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সম্ভাব্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে যৌথ বিবৃতির অপেক্ষা করতে হবে।

এই সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের বিষয়টি সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা থেকে পাওয়া অঙ্গীকারকে নির্দিষ্ট সহযোগিতার কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমঝোতা ভূমিকা রাখতে পারে।

## চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী

এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে জাপানের টোকিওতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। তাঁরা নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।

সফরের প্রথম দিনেই জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি সফরের অংশ হিসেবে এসব যোগাযোগকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের কর্মসূচিতে সরকারি পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

## তারো আসোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সফরের প্রথম দিনে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

এই সাক্ষাৎ জাপানের রাজনৈতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগের অংশ ছিল। বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে।

তবে সৌজন্য সাক্ষাতে কোন কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

## জাইকা ও জাপান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানও তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

তবে এসব বৈঠকের পর কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

## বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের একাধিক দিক উঠে এসেছে। ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাপানি উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

সফরকালে সমঝোতা স্মারক বিনিময় এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকারের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

## শেষ কথা

টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

জ্বালানি, আইসিটি, রেলওয়ে, যোগাযোগ অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানি উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা এবং জাপান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনার বিস্তারিত যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

**সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।**

Social Icons