GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / স্বাস্থ্য / ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি তরুণরা, মৃত্যুতে নারী, কারণ কী?

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি তরুণরা, মৃত্যুতে নারী, কারণ কী?

দেশে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরো আগস্ট মাসে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই তার প্রায় দ্বিগুণ আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের আক্রান্তের হারও উল্লেখযোগ্য।

৬০ হাজারের বেশি আক্রান্ত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬০ হাজার ৩৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৬৫ জন পুরুষ এবং ২২ হাজার ৪৭৩ জন নারী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। মৃতদের মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৮৫ জন পুরুষ।

তবে ১৯ সেপ্টেম্বর একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ২৩২ জনের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৭৮৯ জন এবং নারী ৪৪৩ জন। ওই দিন ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই ছিলেন পুরুষ।

১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি

বয়সভিত্তিক তথ্যেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৩১ জন এবং ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮ হাজার ২২৪ জন।

এ ছাড়া ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৬৬ জন।

মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এই বয়সী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৩ জন এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাইরে চলাচল বাড়াচ্ছে তরুণদের ঝুঁকি

কিটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ তাদের বেশি চলাফেরা। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী তরুণরা দিনের বড় একটি সময় বাড়ির বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাটান। ফলে মশার সংস্পর্শে আসার সুযোগও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, অফিস, নির্মাণস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তবে হাসপাতালে ভর্তি ও ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রবণতার কারণেও সরকারি পরিসংখ্যানে তরুণ ও পুরুষদের আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নারীদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ কী

ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যায় পুরুষ এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে হাসপাতালে যাওয়া, গর্ভাবস্থা, রক্তপাত ও রক্তস্বল্পতার মতো বিষয় ডেঙ্গু আক্রান্ত নারীদের জটিলতা বাড়াতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমনের মতে, পরিবারের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে নারীর সীমিত নিয়ন্ত্রণ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত নারী রোগীদের ক্ষেত্রে ভর্তির শুরুতেই গর্ভাবস্থা ও রক্তক্ষরণের তথ্য নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসূতি ও মেডিসিন বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জীবনযাত্রাও বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণরা জৈবিকভাবে ডেঙ্গুর প্রতি বেশি সংবেদনশীল এমন প্রমাণের কথা এখানে বলা হয়নি। বরং তাদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও কাজের পরিবেশ আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।

এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের দিনের বড় সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, কারখানা কিংবা নির্মাণস্থলে কাটানোর কারণে মশার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় বিশেষজ্ঞরা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Social Icons