GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ কেন? সামনে এলো বড় কারণ

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ কেন? সামনে এলো বড় কারণ

ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দেশটির একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় শূন্য

ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল মাত্র কয়েক দিন আগে।

কিন্তু বন্যার প্রভাবে সেই সরবরাহ এখন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে

বর্ষা মৌসুমে নেপাল সাধারণত গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। বন্যার পর দেশটির মোট বিদ্যুৎ রপ্তানি কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত দুই প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রকল্প দুটি হলো—

  • ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  • ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

গত সপ্তাহ থেকেই প্রকল্প দুটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন রয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব প্রকল্পের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

বিকল্প প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর চেষ্টা

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ কারণে বিকল্প হিসেবে অন্য প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।

১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত দুই প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দুর্যোগের পর থেকে নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হতে চেয়েছিল নেপাল

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে শুষ্ক শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল নেপাল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

২০২১ সালে প্রথমবার বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করে নেপাল। এরপর দেশটির বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে দেশটি।

বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা

২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ-নেপাল জ্বালানিসচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি আরও ২০ মেগাওয়াট বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল।

বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

তবে পরে ভারত জানায়, সঞ্চালন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করা সম্ভব নয়।

গত জুনে নেপাল-ভারত জ্বালানিসচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে নেপাল আবারও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানায়।

গোড্ডা কেন্দ্র থেকেও কমেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

এদিকে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত গোড্ডার আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কোম্পানিটি।

বাংলাদেশে আদানির জনসংযোগ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ফাইভ ডব্লিউ কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, ভারতে রেলপথে তীব্র জট এবং পণ্য বোঝাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধের কারণে গোড্ডা কেন্দ্রে কয়লা পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্বাভাবিকের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছানোর কারণে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দিনের অফপিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে

মূল কথা

ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারত হয়ে বাংলাদেশে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত চিলিমে ও ত্রিশূলী প্রকল্প দুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পর নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিকল্প প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের অনুমোদন চেয়েছে নেপাল।

Social Icons