সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগের তার চুরির ঘটনায় সন্দেহজনক কোনো তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন তথ্য-আলামত বিশ্লেষণের পর এটিকে শুধু চুরির ঘটনা হিসেবেই দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তদন্ত শেষ করে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সন্দেহজনক কোনো তথ্য মেলেনি
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনের তার কেটে নেওয়ার ঘটনাটি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। এ কারণে অভিযুক্তদের ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং অন্যান্য তথ্য ও আলামতও বিশ্লেষণ করা হয়।
তবে তদন্তে চুরির পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি চুরি হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মোর্শেদুল হাসান জানান, যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
ঈদের ছুটির পর বিষয়টি নজরে আসে
গত কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন সচিবালয় খোলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ নেই।
পরে বিটিসিএলের কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগের কেবল
তদন্তে জানা যায়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।
পরে শাহবাগ থানায় মামলা করা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তার কেনার অভিযোগে মাহাবুব হাসানকেও গ্রেফতার করা হয়।
সাড়ে ১২ কেজির বেশি তামার তার উদ্ধার
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রঞ্জন চন্দ্র সচিবালয়ে পরিষ্কারকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে ময়লা পরিষ্কার করার সময় তিনি এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে টেলিফোনের তামার তার কেটে নেন।
ঈদের ছুটি শেষে তিনি ওই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়।
পরে মাহাবুব হাসানের কাছ থেকে আরও ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ কেজি ৪০০ গ্রাম তার উদ্ধার করা হয়েছে।
তিন অভিযুক্তই জামিনে
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার আদালত জামিন দিয়েছেন। এর আগে অন্য দুই অভিযুক্তও জামিন পেয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছাদে দীর্ঘ তার প্যাঁচানো অবস্থায় সচল ছিল। রঞ্জন চন্দ্র ওই তামার তার দেখে লোভে পড়ে তা কেটে নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি এর আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।








