GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / গরমের দাপটে দেখা দিতে পারে ৭ রোগ, সুস্থ থাকবেন যেভাবে

গরমের দাপটে দেখা দিতে পারে ৭ রোগ, সুস্থ থাকবেন যেভাবে

https://gulfbanglanews.com/%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0/

প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তি। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। তাই গরমের সময়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

হিট স্ট্রোক

দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে হিট স্ট্রোক বা হাইপারথারমিয়া হতে পারে। মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, দুর্বলতা ও বমি বমি ভাব এর সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর অবস্থায় অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এড়াতে নিয়মিত পানি পান করা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা জরুরি।

খাদ্যে বিষক্রিয়া

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। ফলে দূষিত খাবার বা পানি থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া এর সাধারণ লক্ষণ। কাঁচা মাংস, রাস্তার পাশে খোলা খাবার ও দূষিত পানি এড়িয়ে চলা উচিত।

পানিশূন্যতা

অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পানি পান করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস খাওয়া যেতে পারে। ডাবের পানি ও লেবুর পানিও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

মাম্পস

মাম্পস একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। এ রোগে কানের সামনের প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায়। গলা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে ব্যথা ও জ্বরও হতে পারে।

চিকেন পক্স

গরমের সময়ে চিকেন পক্সও দেখা দিতে পারে। ত্বকে ছোট ছোট ফোসকা, চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও মাথাব্যথা এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।

হাম

হাম শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এ রোগে প্রবল জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়িও দেখা যায়।

টাইফয়েড

টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ, যা মূলত মল-মুখ পথের মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা ও ক্ষুধা কমে যাওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।

গরমে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

গরমে বাইরে বের হলে ঢিলেঢালা সুতির ও হালকা রঙের পোশাক পরা ভালো। সঙ্গে ছাতা ও টুপি রাখা উচিত। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা এবং শারীরিক জটিলতা থাকা ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে।

প্রচুর পানি পান করতে হবে। বাইরে থাকলে ভারী কাজ এড়িয়ে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া ভালো। খাবার ধরার বা খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে এবং কাঁচা ও রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তরমুজ, শসা, আখ ও আমের মতো তাজা ফল খাওয়া যেতে পারে।

চা, কফি, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চোখের সংক্রমণ এড়াতে হাত পরিষ্কার রাখা এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়া উচিত।

হাম, মাম্পস ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিকা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর এসব টিকা না দেওয়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা দিতে হবে। বাইরে যাওয়ার আগে অন্তত ১৫ এসপিএফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। সানগ্লাস ও টুপিও ব্যবহার করা ভালো।

গরমের সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। শোবার ঘর ঠান্ডা রাখতে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

Social Icons