মূল্যস্ফীতির বাজারে তুলনামূলক সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটের মতো বেকারি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেকারি খাতেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চিনিতে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা, আটা-ময়দায় ১৫-২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডায় প্রতি কার্টনে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
এর সঙ্গে লাইন গ্যাসের সংকটের কারণে বাড়তি দামে এলপিজি কেনা এবং ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ওভেন ও মিক্সারের মতো যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে।
তবে বাজারে ঘোষিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা এবং ১৫ টাকার রুটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম না বাড়িয়ে পণ্যের ওজন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কিছু বেকারি কয়েক দিন ধরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও সমস্যায় পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেকারি শিল্পের বড় অংশই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী।
তবে কাঁচামাল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পুরানা পল্টনের টং দোকানি রাইসুল মিয়া জানান, ১০ টাকার ব্রেড ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটি ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে ব্র্যান্ডের পণ্যই বেশি রাখতে হচ্ছে।
দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ওপরও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। তেজগাঁওয়ের রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করি। আগে যা খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো মানুষের পেটে টান পড়ছে।’
বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবী জুয়েল রানা বলেন, ‘প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট, কেক খেয়ে ৩০ টাকা করে বাড়তি খরচ হলে মাস শেষে তা প্রায় হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।’
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বীকার করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আবার কিছু দোকানি আমাদের সমিতিকে বিব্রত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছি।’
এদিকে ময়দার মিল মালিকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছেন বেকারি মালিকরা।
