সকালের গা ভিজে যাওয়ার ঘাম, তারপরই জানালার টোকা। ভয়টা তখনই ঘিরে ধরে—যখন ডাকার কণ্ঠটা পরিচিত হয় না শুধু, বরং দাদুর ভাষার মতো করে ফাঁদ পেতে বসে।
রাতের টোকা, কণ্ঠের আঁচ

পুরো ঘরেই ঘাম, ফ্যান চললেও স্বস্তি নেই। ঠিক এমন সময় জানালায় বারবার টোকা পড়ে—রবিন! রবিন! দাদুর শৈশবের গল্পের সঙ্গে কণ্ঠের মিল খুঁজে পায় সে। কিন্তু এই মিল মানে স্বস্তি নয়; বরং ভয়ের ভেতর নতুন রহস্য জাগে।
পাগলা নদীর ওপারের মাধুর্য
দাদুর কথায় আসে পাগলা নদীর কথা। নদী নাকি পার হওয়া যেত একলাফে, আর পার হলেই ভিনদেশ। সেখানে ফুলের বাগান—লাল, কমলা, হলুদ—প্রজাপতিরও দেখা মেলে। এই সৌন্দর্য দেখার মুগ্ধতায় আটকে পড়লেই শুরু হয় আসল টান।
ভোলা, ছায়া আর অশরীরীর ভয়
দাদু বলেন, এই দুনিয়ার সঙ্গে শরীরের পাশাপাশি থাকে অশরীর; কায়ার সঙ্গে থাকে ছায়া। আলো-অন্ধকারের মাঝখানে বসে থাকে আরেক ভুবন। তার বাসিন্দা—ভোলা। তারা মানুষের মতো হয়ে উঠতে পারে, বাতাসে মিশতে পারে, ছায়ায় লুকিয়ে থাকতে পারে।
ভয়ের কথাটা এখানেই থামে না। দাদুর ভাষায় ভোলারা একেকভাবে নিজের রূপ পাল্টাতে পারে, আর সেই কারণে ভয়টা কেবল রাতের ভেতর থাকে না—মনেও থেকে যায়।
গ্রামের কাঁচা সময়, ক্ষতের আঠালো রস
দাদুর গল্পে ফিরে আসে গ্রামের দিন। তখনকার ক্লাস-জীবন, খাকি প্যান্ট, সাদা শার্ট—আর বাকিটা সময় লুঙ্গির টান। নদীর পাড়ে কই ধরা, কাঁটার ব্যথা—তারপর আকন্দগাছের রস। পাতার ডাল ছিঁড়লেই যে ঘন দুধসাদা রস বের হয়, তা ক্ষতে লাগালে ঘা সেরে যায়—এই আশ্রয়ও ভয়ের পাশাপাশি দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে ভয়টা এখানে কোনো চটক নয়। বরং পরিচিত কণ্ঠ, অচেনা ভুবন, আর শৈশবের গন্ধ মিশে এক ধরনের টানটান অস্বস্তি তৈরি করে—যে ভয় ঘুম ভাঙায়, ভাবায়, আর চোখ বন্ধ করতে দেয় না।
কিশোর পাঠকের জন্য কেন এই গল্প
প্রবাসী পাঠকের কাছেও এই গল্প টানবে, কারণ এটি রাতের অস্থিরতা, পরিবারঘেঁষা ভয়, আর শৈশব-আদরের মতো করে টিকে থাকা স্মৃতির ভিতর দিয়ে চলে।
প্রশ্ন: গল্পের মূল আবহটা কেমন?
উত্তর: টোকা-ডাকা, দাদুর মুখের ছায়া, আর পাগলা নদীর অচেনা ভুবন—সব মিলিয়ে টানটান ভয়।
প্রশ্ন: দাদুর গল্পে কী শেখার ইঙ্গিত আছে?
উত্তর: ভয়কে কেবল ভীতিই ভাবা নয়—অচেনার সঙ্গে সতর্ক দৃষ্টিও দরকার।
প্রশ্ন: ভাষা কেন আলাদা লাগে?
উত্তর: কাব্যধর্মী কথার ভেতর কথার ছন্দেই এগোয় পুরো বয়ান।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: kishoralo.com









