GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর, তদন্তের আহ্বান

মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর, তদন্তের আহ্বান

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তাঁর অভিযোগ, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে এসব দাবি করেন মাসুদ সাঈদী। সেখানে তিনি মানিক পশারীর জানাজা বা দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আপত্তি ছিল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে।

গার্ড অব অনার নিয়ে কী বললেন মাসুদ সাঈদী?

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আপত্তি জানান বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাসুদ সাঈদীর দাবি, প্রশাসন মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বলে জানালেও স্থানীয়দের একাংশ এ বিষয়ে আপত্তি অব্যাহত রাখেন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি নিজে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।

মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না; আপত্তি ছিল তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রশাসন পরে গোপনে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরলেন তিনি

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।

মাসুদ সাঈদীর উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় মানিক পশারী বলেছিলেন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন।

উদ্ধৃত বক্তব্যে মানিক পশারী আরও বলেছিলেন, তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। তবে সেটি সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার আগে, নাকি পরে দেওয়া হয়েছিল—তা তাঁর মনে নেই বলে উদ্ধৃত বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

এই বক্তব্যকে ভিত্তি করে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। তবে প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনালের মূল নথি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি যাচাইয়ের ফলাফল তুলে ধরা হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি

মাসুদ সাঈদী তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন এবং কারা তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা উচিত। তাঁর অভিযোগ, অনিয়মের মাধ্যমে তালিকাভুক্তি বা রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া এবং তাঁকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালকে নিয়েও অভিযোগ

মাসুদ সাঈদী তাঁর পোস্টে সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ডিও লেটার দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কারও নাম তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এ কে এম এ আউয়াল, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্তের ফলাফলও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

মানিক পশারীর মৃত্যু ও দাফন নিয়ে আগের ঘটনা

মানিক পশারী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী এবং রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া এবং দাফন ঘিরে স্থানীয়ভাবে আপত্তি ও উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়।

মাসুদ সাঈদী তাঁর বক্তব্যে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়টিকে জানাজা বা দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা থেকে আলাদা করে দেখেছেন। তাঁর দাবি, আপত্তির মূল কারণ ছিল মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়।

সব মিলিয়ে, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং ভাতা গ্রহণের বিষয় নিয়ে মাসুদ সাঈদী একাধিক অভিযোগ ও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Social Icons