GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / মেরুল বাড্ডায় অটোরিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেরুল বাড্ডায় অটোরিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বিদ্যুৎ হোসেন (৩০) নামে এক অটোরিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে স্বজনদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড্ডা থানার অধীন মেরুল বাড্ডার স্বাধীন বাংলা এলাকার একটি হাঁস-মুরগির আড়তসংলগ্ন টিনশেড ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বিদ্যুৎ হোসেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম হানিফ ভান্ডারী। তিনি বাড্ডার আনন্দবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

বিদ্যুতের স্ত্রী রূপালী বেগম জানান, তাদের ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে ৭ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন সংসার ভালো চললেও প্রায় দেড় মাস ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ কারণে তিনি মেরুল বাড্ডায় নিজের বোনের বাসায় উঠে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন।

রূপালী বেগম বলেন, শনিবার রাতে বিদ্যুতের সঙ্গে তার শেষবার ফোনে কথা হয়। তখন বিদ্যুৎ তাকে আর ফোন না দিতে বলেন এবং প্রয়োজন হলে মেরুল বাড্ডার স্বাধীন বাংলা এলাকার হাঁস-মুরগির আড়তসংলগ্ন পরিত্যক্ত কার্টন ফ্যাক্টরিতে খোঁজ নিতে বলেন।

পরে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সেখানে যান রূপালী। তিনি জানান, আড়তের একটি টিনশেড ঘরের ভেতরের মাচালের সঙ্গে লুঙ্গি গলায় পেঁচানো অবস্থায় বিদ্যুৎকে ঝুলতে দেখেন।

রূপালী আরও জানান, বিদ্যুৎ নিয়মিত রিকশা চালাতেন না। গত ৮-৯ মাস ধরে ওই পরিত্যক্ত কার্টন ফ্যাক্টরিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি নেশা করতেন বলে দাবি করেন তিনি। কয়েক দিন আগে তিনি কাজের জন্য বিদেশ যেতে চাইলে বিদ্যুৎ বাধা দেন। এ বিষয়েও তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হতো বলে জানান রূপালী।

বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, দুপুর দেড়টার দিকে খবর পেয়ে স্বাধীন বাংলা এলাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, নিহতের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও পারিবারিক কলহের কারণে অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Social Icons