GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / নামজারিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, দর-কষাকষিতে ২০ হাজারে ‘সমঝোতা’

নামজারিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, দর-কষাকষিতে ২০ হাজারে ‘সমঝোতা’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এক সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগ, ছয়টি নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এ সময় নগদ টাকা গ্রহণ ও গোনার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়াচর চর গ্রামের বাসিন্দা। তার দাবি, গত ২০ মে ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারি করাতে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানের কাছে যান তিনি।

মহিউদ্দিনের অভিযোগ, শুরুতেই ছয়টি নামজারির জন্য তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।

তিনি জানান, সমঝোতা অনুযায়ী প্রথমে ১০ হাজার টাকা নগদ দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা নামজারির কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে একটি নামজারি সম্পন্ন হলেও বাকি আবেদনগুলো এখনও ঝুলে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তির হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওতে নামজারি ও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।

সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, একটি নামজারির জন্য ১ হাজার ১৭০ টাকা দিতে হয়। অভিযোগটি সত্য হলে চারটি নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

নামজারির মতো সরকারি সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

Social Icons