GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / যে ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে থাইরয়েডের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে

যে ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে থাইরয়েডের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে

থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে শরীরে কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে, ভিটামিন ডি-এর কম মাত্রা এবং হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসের মতো অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো একটি ভিটামিনের অভাবই সরাসরি থাইরয়েড রোগের কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে কী সম্পর্ক?

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসের মতো অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক সময় ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম থাকে।

তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থেকেই এ ধরনের রোগ হচ্ছে, নাকি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো কারণে ভিটামিনের মাত্রা কমছে—তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ

ভিটামিন ডি ছাড়াও ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক থাইরয়েডের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তির মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনের বিপাক এবং জিঙ্ক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ও কোষীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

তবে সবার ক্ষেত্রে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে না। তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ভিটামিন ও খনিজের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী খাবেন?

১. ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার

ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ এবং ভিটামিন ডি দিয়ে সমৃদ্ধ দুধ বা অন্যান্য খাবার থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। সূর্যালোকের সংস্পর্শেও শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তবে ঘাটতি থাকলে শুধু খাবার বা সূর্যালোক দিয়ে তা পূরণ করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে।

২. ভিটামিন বি১২-যুক্ত খাবার

মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীরা ভিটামিন বি১২-সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড খাবার বেছে নিতে পারেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

৩. সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার

মাছ, ডিম, মাংস ও বিভিন্ন বাদামে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এই খনিজের ভূমিকা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সেলেনিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

৪. জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার

মাংস, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, বাদাম ও বীজ জিঙ্কের উৎস। সুষম খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় জিঙ্ক পাওয়া সহজ হয়।

৫. পরিমিত আয়োডিন গ্রহণ

থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ কিছু মানুষের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

থাইরয়েডের সমস্যা এড়াতে কোন খাবার বাদ দেবেন?

অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট কোনো খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া দরকার—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াজাতীয় খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে অধিকাংশ মানুষের থাইরয়েডের ক্ষতি হয় না।

তবে অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট বা সামুদ্রিক শৈবালের ঘন নির্যাস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক ধড়ফড় করা কিংবা গলায় ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রয়োজনে চিকিৎসক থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (টিএসএইচ), ফ্রি টি৪ এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। এসব পরীক্ষার ফল ও উপসর্গ বিবেচনা করেই রোগ নির্ণয় করা হয়।

মনে রাখতে হবে, শুধু ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি পূরণ করলেই থাইরয়েডের রোগ প্রতিরোধ করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসই থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সূত্র: যুগান্তর লাইফস্টাইল ডেস্ক।

Social Icons