ফেসবুক লাইভে সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও এ ধরনের আচরণ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হতে পারে না।
শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য সাধারণ মানুষকে কী বার্তা দেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা, প্রতিবাদলিপি পাঠানো কিংবা প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে রাশেদ খাঁনের ফেসবুক লাইভে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হিসেবে দেখছেন না তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা সহ্য করার আহ্বান
রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সংবাদপত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হতে পারে কিংবা কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংযম, পরিশীলিত আচরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশিত।
তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়। একইভাবে সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সরকারেরও সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষায়, রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অবস্থান জানতে চাইলেন পাটওয়ারী
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁরা এমন একটি দেশ প্রত্যাশা করেন, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না।
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকা জরুরি।
এ ছাড়া রাশেদ খাঁনের সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি হওয়া উচিত ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং জবাবদিহি।









