সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের চায়ের আড্ডায় শিঙাড়া অনেকেরই প্রিয় খাবার। সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম দামের কারণে রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের নাশতার টেবিলেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে সুস্বাদু এই ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পর কারও কারও পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর কিংবা পেট ভার হয়ে থাকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শিঙাড়া খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। কারণ, সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলার পুর দিয়ে ডুবো তেলে ভাজা হয় শিঙাড়া। ফলে এতে তুলনামূলক বেশি চর্বি ও ক্যালরি থাকতে পারে।
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
শিঙাড়া খালি পেটে খেলেই সবার শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে, এমন নয়। তবে খাবারটির উপাদান, তেলের পরিমাণ এবং ব্যক্তির হজমের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১. বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স
তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়াতে পারে। এ অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে এসে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর কিংবা গলায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের শিঙাড়া খাওয়ার পর এসব উপসর্গ বেশি অনুভূত হতে পারে।
২. পেট ফাঁপা ও বদহজম
ডুবো তেলে ভাজা খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া খেলে কারও কারও পেট ভার হয়ে থাকা, পেট ফাঁপা কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে এসব সমস্যা শুধু খালি পেটে খাওয়ার কারণে হয় না; খাবারের পরিমাণ ও ব্যক্তির হজমের অবস্থাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ও ওজন বৃদ্ধি
শিঙাড়ায় কত ক্যালরি থাকবে, তা এর আকার, পুরের উপকরণ এবং ভাজার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। তাই সব শিঙাড়ার ক্যালরির পরিমাণ এক নয়।
তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে শিঙাড়া খেলে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
৪. দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব বিষয় হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে শুধু শিঙাড়া খাওয়ার কারণে হৃদ্রোগ হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে শিঙাড়া খেলে কী করবেন?
সকালে শিঙাড়া খেতে চাইলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা ভালো। যাঁদের শিঙাড়া খাওয়ার পর বুকজ্বালা, গ্যাস বা বদহজম হয়, তাঁরা খাবারটি এড়িয়ে চলুন অথবা খেলে উপসর্গ বাড়ে কি না লক্ষ করুন।
প্রতিদিনের নাশতায় শিঙাড়ার ওপর নির্ভর না করে ডিম, রুটি, ওটস, ফল কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
শিঙাড়া খাওয়ার পর নিয়মিত বুকজ্বালা বা বদহজম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর বুকব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, সকালে খালি পেটে শিঙাড়া খেলেই যে গুরুতর ক্ষতি হবে, তা নয়। তবে বেশি তেল ও ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা এবং সুষম নাশতা বেছে নেওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।









