ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ ইস্যুতে এক প্রবাসী সাংবাদিককে অডিও কলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঢাকায় দল তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেবে বলে আশা করছেন। একই সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে থাকার ঘটনা নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
সিটি নির্বাচন নিয়ে ইশরাকের পরিকল্পনা
সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের সঙ্গে রোববার রাতে কথা বলার সময় ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ শুরু করবেন। রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পর্যায়ে যেন তাঁর কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রেখেছেন তিনি।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অস্ত্র হাতে থাকার ঘটনা নিয়ে ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তো কারও জমি দখল করতে যাইনি, কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাইনি। তো সমস্যা কোথায়?’
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে অবস্থান করার সময় ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁরা প্রবেশ করার সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জনকে বেরিয়ে আসতে দেখেন বলে জানান।
ইশরাকের ভাষ্য, ওই সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি মনে করেছিলেন, কেউ অস্ত্র বের করছেন। এ কারণে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করেন বলে জানান।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিয়েও কথা বলেন ইশরাক। তাঁর মতে, রাজধানীর ব্যবস্থাপনা একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয় না। ঢাকা সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি মনে করেন, রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঢাকার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন উল্লেখ করে ইশরাক জানান, রাজধানীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্ক
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণে পলিথিনের ছাউনিযুক্ত ঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা।
ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ইশরাকের পক্ষ থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ইশরাক আরও বলেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।









