সুদের টাকা দিয়ে মসজিদের টয়লেট বা অজুখানা নির্মাণ করা যাবে কি, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী মসজিদের মূল ভবনের পাশাপাশি টয়লেট, অজুখানা ও ব্যবস্থাপনার কাজেও সুদের অর্থ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
ইসলামি নির্দেশনায় আল্লাহর ঘর মসজিদের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে হালাল ও পবিত্র অর্থ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের কাজে হারাম অর্থ ব্যবহার
মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের স্থান। তাই এর নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন থেকে অর্থ ব্যয় করা জরুরি।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ
অর্থ: ‘একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে…।’
(সুরা আত-তওবা: ১৮)
এ নির্দেশনার আলোকে মসজিদের মূল ভবন হোক কিংবা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টয়লেট ও অজুখানা, এসব কাজে হারাম অর্থ ব্যবহার করা উচিত নয়।
সুদের ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশ
সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
অর্থ: ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’
(সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)
অন্য আয়াতে সুদের ব্যাপারে আরও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
অর্থ: ‘তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।’
(সুরা আল-বাকারা: ২৭৮-২৭৯)
সুদের টাকার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে হাদিস
সুদের লেনদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারেও রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন।
হাদিসে এসেছে, সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘তারা সবাই সমান।’
(মুসলিম: ১৫৯৮/১৫৯৭)
সুদের টাকা হাতে এলে কী করবেন?
কোনো কারণে কারও হাতে সুদের অর্থ চলে এলে সেটি ব্যক্তিগত ভোগ বা নিজের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এ অর্থ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, মূল মালিককে ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা ফেরত দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মূল মালিককে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে সওয়াবের নিয়ত না করে তা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিকে দেওয়া যেতে পারে।
তৃতীয়ত, জনকল্যাণমূলক কাজেও এ অর্থ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মসজিদের টয়লেট, অজুখানা কিংবা অন্যান্য নির্মাণকাজের পাশাপাশি রাস্তা সংস্কার, রাস্তার বাতি, নলকূপ বা কূপ খননের মতো কাজেও সুদের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
হালাল অর্থ ব্যবহারের গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের পবিত্র স্থান। তাই মসজিদের নির্মাণ ও পরিচালনায় হালাল অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
সুদের অর্থ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও হাতে আসে, তাহলে তা ব্যক্তিগতভাবে ভোগ না করে শরিয়তসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করা এবং আল্লাহর কাছে তওবা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মূল কথা
সুদের টাকা দিয়ে মসজিদের টয়লেট, অজুখানা বা মসজিদের অন্য কোনো নির্মাণকাজ করা যাবে না। শরিয়তের আলোচনায় মসজিদের মূল ভবনের পাশাপাশি এর সংশ্লিষ্ট স্থাপনাতেও হালাল অর্থ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুদের অর্থ হাতে এলে সম্ভব হলে মূল মালিককে ফেরত দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া উপযুক্ত দরিদ্রদের মধ্যে দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।





