মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়া, লামিন ইয়ামাল ও ফেরমিন লোপেজ মিলে করেছেন ১৬ গোল। এই কীর্তির মাধ্যমে ৬৮ বছর পর স্পেনের শীর্ষ লিগে একটি বিরল রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে বার্সেলোনা।
রোববার রাতে লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নতুন মৌসুমে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছে কোচ হানসি ফ্লিকের দল। ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে তারা।
ইয়ামাল-রাফিনিয়াদের গোলবন্যা
বার্সেলোনার হয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে রাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামাল করেছেন ছয়টি করে গোল। ফেরমিন লোপেজের গোল চারটি।
অর্থাৎ আক্রমণভাগের এই ত্রয়ীর মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৬টি।
এই সংখ্যাই বার্সেলোনাকে নিয়ে গেছে ৬৮ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডের পাশে। ১৯৫৮ সালের পর স্পেনের শীর্ষ লিগে কোনো দলের আক্রমণভাগ প্রথম পাঁচ ম্যাচে এত দ্রুত ১৬ গোল করতে পারেনি।
লেভান্তের বিপক্ষে ইয়ামালের জোড়া গোল
লেভান্তের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেছেন লামিন ইয়ামাল।
১৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল।
মজার বিষয় হলো, দুই গোলের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাফিনিয়ার। প্রথম গোলের আগে রাফিনিয়ার পাস থেকেই আক্রমণ তৈরি হয়। আর পেনাল্টি পাওয়ার আগেও ইয়ামাল বল পেয়েছিলেন রাফিনিয়ার কাছ থেকে।
এর আগে বার্সেলোনার হয়ে গোলের সূচনা করেন শাভি এসপার্ত, রাফিনিয়ার পাস থেকে।
তবে ম্যাচের একপর্যায়ে রক্ষণভাগের দুটি ভুলে লেভান্তে দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত কারিম আদেয়েমির গোলে সেই শঙ্কা দূর হয় বার্সেলোনার।
রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ত্রয়ীর পাশে বার্সা
ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের পরই বার্সেলোনার আক্রমণভাগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি আক্রমণভাগ আলফ্রেডো দি স্তেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস ও হেক্তর রিয়াল প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল।
এবার রাফিনিয়া, ইয়ামাল ও ফেরমিন লোপেজও প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৬ গোল করে সেই কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছেন।
লা লিগায় আরও বড় গোলরেকর্ড রয়েছে
তবে প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৬ গোলই লা লিগার সর্বোচ্চ রেকর্ড নয়।
১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়া এফসির আক্রমণভাগের গিয়ের্মো কাম্পানাল, মিগেল তোরোনতেগুই ও হোসে লোপেজ প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ২৪ গোল।
একই মৌসুমে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের প্রুদেন সানচেজ, পাকো কাম্পোস ও কোসমে ভাসকেজ করেছিলেন ১৭ গোল।
সেলতা ভিগোর হয়ে আগুস্তিন হারাবো, হুয়ান দেল পিনো ও রাইমুন্দো দিয়াজও করেছিলেন ১৭ গোল।
নিজেদের পুরোনো রেকর্ডেও ভাগ বসাল বার্সেলোনা
লা লিগার ইতিহাসে আরও দুটি আক্রমণভাগ প্রথম পাঁচ ম্যাচে ঠিক ১৬ গোল করার কীর্তি গড়েছিল।
১৯৪১-৪২ মৌসুমে সেভিয়ার রাইমুন্দো ব্লাঙ্কো, পেপিয়ো ও কাম্পানাল এই কীর্তি করেছিলেন।
অন্যদিকে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে বার্সেলোনারই সেসার রদ্রিগেজ, মার্কোস আউরেলিও ও এস্তানিসলাও বাসোরা প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল।
অর্থাৎ ৬৮ বছর পর বার্সেলোনার বর্তমান আক্রমণভাগ শুধু একটি পুরোনো রেকর্ডের সমানই হয়নি, ক্লাবের নিজেদের ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে।
মৌসুমের শুরুতেই রাফিনিয়া, ইয়ামাল ও ফেরমিনের এমন দুর্দান্ত ফর্ম বার্সেলোনার জন্য বড় স্বস্তির খবর। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় এবং আক্রমণভাগের ১৬ গোলের পর এখন প্রশ্ন একটাই, এই গোলের ধারা পুরো মৌসুমজুড়ে কতটা ধরে রাখতে পারে হানসি ফ্লিকের দল?








