কৃষক ও পল্লী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের অর্থসুবিধা থাকছে ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে’। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
সুদ ৮ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে সুবিধা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ। অর্থায়নের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী অঞ্চলের আয় উৎসারী নানা কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হবে—যাতে ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ে।
তিন বছর মেয়াদি স্কিম, কবে থেকে
চলতি বছরের ৮ জুন থেকে স্কিমটি চালু হয়েছে। এর মেয়াদ তিন বছর। আগামী সময়ে যারা কৃষি বা পল্লীভিত্তিক কাজের জন্য অর্থ জোগাড় করতে চান, তারা এই সুযোগের আওতায় ঋণের আবেদন করতে পারবেন।
কোন খাতে ঋণ মিলবে
‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ এর আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতসহ গ্রামীণ ও পল্লী এলাকার আয় উৎসারী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঋণ নেওয়া যাবে। লক্ষ্য হচ্ছে—উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা।
সীমা কত—কৃষক থেকে উদ্যোক্তা পর্যন্ত
বিজ্ঞপ্তিতে ঋণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শস্য ও ফসল খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সীমা ২০ লাখ টাকা।
আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে তারা এককভাবে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে উৎপাদিত শস্য ও ফসলই দায়বদ্ধকরণ হিসেবে ধরা হবে।
অংশ নিচ্ছে ৪২ ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৪২টি ব্যাংক স্কিমটিতে অংশগ্রহণের চুক্তি করেছে। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের কেউ—যাদের মাধ্যমে গ্রাম বা কৃষিকাজে বিনিয়োগ/ব্যবসা করতে ইচ্ছা—তাদের জন্যও অর্থায়নের পথ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই স্কিমের মূল লক্ষ্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
অনেক প্রবাসী পরিবারই দেশে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে কৃষি বা ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চান। ৮ শতাংশ সুদে ও তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ঋণসীমা থাকায় পল্লী পর্যায়ের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ দাঁড়াতে পারে। ফলে দেশে পাঠানো অর্থের বিকল্পভাবে অর্থায়নের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে।
সচরাচর প্রশ্ন
স্কিমটি কারা নিতে পারবেন? কৃষি ও পল্লী অঞ্চলের শস্য-ফসল, যন্ত্রপাতি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে যারা ঋণ নিতে চান, তারা।
সুদের হার কত? গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার ৮ শতাংশ।
বিশেষ সুবিধা কার জন্য? ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য জামানত ছাড়াই শস্য ও ফসল চাষে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









