প্রবাসীদের পাঠানো টাকা বাড়ছে—তবু ডলার বাজারে স্বস্তি আসছে না। রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা থাকলেও আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর আবার চাপ তৈরি হয়েছে।
রেমিট্যান্স বাড়লেও ‘মুদ্রা আয়ের অন্য উৎস’ টান ধরেনি

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় অঙ্ক বেশি। তবু জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বাড়ায় ডলারের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
ইন্টারব্যাংক বাজারে ডলারের দাম বেড়েছে
এ চাপের প্রভাব দেখা গেছে আন্তঃব্যাংক বাজারে। প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির হিসাব অনুযায়ী, ডলারের দর বাড়লে আমদানি ব্যয় ও বাজারদর—দুটিতেই প্রভাব পড়তে পারে।
আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের ব্যবধান
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যে টান পড়ছে—যা প্রবাসী আয়ের ভালো প্রবাহ থাকলেও স্বস্তি কমায়।
জ্বালানি-সারে ব্যয় বেশি, চাপ বেশি
বিশেষ করে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপ স্পষ্ট। পাশাপাশি সার আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। তবে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে।
রিজার্ভ ঠিক রাখার চেষ্টাও চলছে
জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ীও রিজার্ভ নির্ণয় করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত আছে।
প্রবাসীদের জন্য এর মানে কী?
রেমিট্যান্স বাড়লে অর্থনীতির ভরসা তৈরি হয়। তবে ডলার বাজার চাপে থাকলে দেশে পণ্যের দাম, বিশেষ করে আমদানি নির্ভর পণ্য ও সেবার খরচে অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই বৈধ পথে নিয়মিত রেমিট্যান্স ধরে রাখতে সচেতন থাকাই প্রবাসীদের বড় ভূমিকা।
প্রশ্ন ১: রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলার কেন চাপে থাকে?
আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ে—এটাই চাপের মূল কারণ।
প্রশ্ন ২: রিজার্ভের অবস্থান কেমন?
জুলাই শেষে রিজার্ভের পরিমাণ মোট হিসেবে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: dailynayadiganta.com









