GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / পোশাক রপ্তানিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

পোশাক রপ্তানিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ও পোশাক কারখানা—সার্কুলার অর্থনীতির ধারণা

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের রাস্তাটা ঠিকমতো ধরতে পারলে পোশাক রপ্তানিতে সম্ভাব্য ৫ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ দেখা যাচ্ছে। আর এই সুযোগ মানে শুধু নতুন ব্যবসা নয়—প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রভাব ফেলার মতোই কর্মসংস্থান ও শিল্পের স্থিতি ধরে রাখার সম্ভাবনাও।

সার্কুলার প্লাস্টিক-টু-টেক্সটাইল কৌশল

প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ও পোশাক কারখানা—সার্কুলার অর্থনীতির ধারণা

রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ ওয়ার্কিং কমিটির পঞ্চম সভায় সার্কুলার অর্থনীতির বাস্তবায়ন নিয়ে নীতিপত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে মূল আলোচনায় ছিল প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের নীতিগত ঘাটতি কাটিয়ে প্লাস্টিক-টু-টেক্সটাইল অর্থনীতি গড়ে তোলার পথরেখা।

ইইউর শর্ত পূরণে গুরুত্ব

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জাতিসংঘের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় সার্কুলার অর্থনীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্কুলারিটি-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, সরকার সবুজ ব্যবসা ও টেকসই শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ

সভায় জানানো হয়, ধাপে ধাপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্লাস্টিক স্টিকযুক্ত কটন বাড, প্লাস্টিক স্টিরার ও প্লাস্টিক স্ট্র নিষিদ্ধের উদ্যোগ চলছে। তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়ার কথাও বলা হয়। সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা জরুরি বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিআর, মান নির্ধারণ ও বায়োডিগ্রেডেবল ঝুঁকি

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. রেজাউল করিম জানান, এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি শিগগির বাস্তবায়ন করা হবে। পুনর্ব্যবহৃত পিইটির মান নির্ধারণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও আসে সভায়।

বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক প্রসঙ্গে বলা হয়, এটি এখনো বাধ্যতামূলক মানদণ্ডের আওতায় না থাকায় বিএসটিআই মান নির্ধারণ করতে পারছে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কম্পোস্টেবল প্লাস্টিকে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনের কথা বলা হয়, কারণ বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বুয়েট এ বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।

বর্জ্য থেকে পোশাকে নতুন বাণিজ্য সুযোগ

বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম নীতিপত্র উপস্থাপনের সময় জানান, দেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের বড় পরিমাণ রয়েছে। বর্জ্যকে সার্কুলার ব্যবস্থায় আনা গেলে আমদানিনির্ভর ম্যান-মেড ফাইবারের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা পূরণ সহজ হতে পারে—এ থেকেই পোশাক রপ্তানিতে অতিরিক্ত ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসী আয় যে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, সেখানে পোশাক খাতের সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংকে রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে টিকে থাকা—এমনকি বাড়তি কর্মসংস্থানের পথও তৈরি হতে পারে।

প্রশ্নোত্তর

পোশাক রপ্তানির সুযোগটা কীভাবে তৈরি হচ্ছে?
প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ও প্লাস্টিক-টু-টেক্সটাইল অর্থনীতির কৌশল ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা মেটানো সহজ হবে।

ইইউর শর্ত পূরণে কী ভূমিকা আছে?
সার্কুলারিটি-সংক্রান্ত শর্ত পূরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে, যা রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়ক।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো হবে কীভাবে?
প্রথম পর্যায়ে প্লাস্টিক স্টিকযুক্ত কটন বাড, প্লাস্টিক স্টিরার ও প্লাস্টিক স্ট্র নিষিদ্ধের উদ্যোগ চলছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons