নেত্রকোনার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণ হয়নি। অস্থায়ী কাঠামোয় চলছে শিক্ষা কার্যক্রম—আর সেই সংকটই ক্রমে শিক্ষক, আবাসন থেকে শুরু করে ক্লিনিক্যাল বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের।
অস্থায়ী কাঠামোয় শিক্ষা, উদ্বেগ ক্লিনিক্যাল সুযোগ

মেডিকেল কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে নেত্রকোনার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের পাশে অস্থায়ী অবকাঠামোতে। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষানবিশকাল শেষে চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন, দ্বিতীয় ব্যাচ শিক্ষানবিশকালের শেষ পর্যায়ে, আর তৃতীয় ব্যাচ ফলাফলের অপেক্ষায়। তবে শিক্ষার্থী যত বাড়ছে, একাডেমিক সুবিধা ততটা সমানভাবে বাড়েনি।
বিশেষ করে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ক্লিনিক্যাল শিক্ষার সুযোগ নিয়ে। হাসপাতালে যে পর্যায়ের সুবিধা দরকার, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো নেই। হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রোপচার কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (সিসিইউ) চালু না থাকায় গুরুতর রোগীদের অনেককেই উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে হয়।
শিক্ষক-আবাসন সংকট টানছে ব্যয়ের চাপ
শুধু অবকাঠামোর সমস্যাই নয়, শিক্ষকসংকটও প্রকট। চিকিৎসাশিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মেডিকেল শিক্ষায় শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। রোগী দেখা, রোগনির্ণয়, চিকিৎসাপদ্ধতি, অস্ত্রোপচারসহ নানা বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ না পেলে দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি থেকে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে আবাসনসংকট, শ্রেণিকক্ষ ও পাঠাগারের সীমাবদ্ধতাও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনাকে চাপে রাখছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাচ-ভিত্তিক অগ্রগতি হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনিশ্চয়তা থামেনি।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে জায়গা ঠিকই হয়নি আট বছরে
মৌজে-বালি এলাকায় জায়গা নির্বাচন নিয়ে উদ্যোগ হয়েছিল ২০১৯ সালে। একই সঙ্গে জরিপ ও নকশার কাজও এগোয়। অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও সেটি অনুমোদন পায়নি। পরে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ একর জায়গা থেকে মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে নামজারি ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। ফলাফল হিসেবে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ আট বছরেও দৃশ্যমান হয়নি।
প্রবাসী পরিবারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসে থাকা পরিবারগুলোর কাছে চিকিৎসাসেবা মানে শুধু খবর নয়—এটা নিরাপত্তা, খরচ এবং সময়ের হিসাব। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি না হলে রোগীরা শেষ পর্যন্ত আরও দূরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। তাই স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ব্যবহারিক শিক্ষাব্যবস্থা ঠিকভাবে চালু হওয়া প্রবাসী পরিবারসহ সবার জন্যই ভবিষ্যতের চিকিৎসাসুবিধার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সংকট কাটাতে কী জরুরি
শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণে ঘাটতি যাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও প্রয়োজনীয় সুবিধা পূর্ণভাবে চালুর চাপ আছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও আবাসনের সংকট কমিয়ে শ্রেণিকক্ষ ও পাঠাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও এগোনো দরকার। স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনিশ্চয়তা কমলেই শিক্ষা পরিবেশে গতি আসার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশ্ন: নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এখন কোথায় চলছে?
উত্তর: নেত্রকোনার সদর হাসপাতালের পাশে অস্থায়ী অবকাঠামোতে।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের প্রধান উদ্বেগ কী?
উত্তর: ক্লিনিক্যাল বা হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা।
প্রশ্ন: স্থায়ী ক্যাম্পাস বিলম্বের পেছনে কী ধরনের জটিলতা দেখা যাচ্ছে?
উত্তর: জায়গা নির্ধারণ ও প্রকল্প অনুমোদন-প্রক্রিয়ার টানাপোড়েনের কথা উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









