সময় আর খরচ—দুইই প্রান্তিক ফুলচাষির সবচেয়ে বড় বাধা। যশোরের এক বেসরকারি উদ্যোগ সেই বাধা কিছুটা পেরিয়ে দিয়েছে, ফলে চারা কেনা, উৎপাদন ও পরিকল্পনায় সুবিধা পাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
ভারত নির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ী চারা

ঝিনাইদহের মহেশপুর গ্রামের সাজেদা খাতুন আগে ভারত থেকে জারবেরা ফুলের চারা আনতেন। কিন্তু এতে খরচ বাড়ত, আবার সময়মতো চারা দেশে পৌঁছাবে কি না—এই দুশ্চিন্তাও কাজ করত। সাত বছর আগে তিনি জানতে পারেন যশোরের একটি ল্যাব থেকে চারা সংগ্রহ করা যায়। তখন থেকেই তাঁর দুশ্চিন্তার জায়গা কমে আসে।
গ্রিন বায়োটেক টিস্যু কালচার ল্যাব নামে আরেকটি উদ্যোগের অধীনে বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়। ভারত থেকে আনলে যে খরচ পড়ত, তার প্রায় অর্ধেক দামে এখানে চারা মেলে বলে জানান সাজেদা খাতুন। পাশাপাশি ভারত থেকে চারা আনতে আগে অর্ডার দিতে হওয়ায় সময়ের চাপ থাকত; ল্যাবের মাধ্যমে সেই ঝামেলাও কমেছে।
দুই বিঘায় বাণিজ্যিক চাষে গতি
সাজেদা খাতুন এখন দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ করছেন। তাঁর মতো আরও অনেক ফুলচাষির সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে—এমনটাই দেখা যাচ্ছে স্থানীয়ভাবে। আগে যেখানে চারা সংগ্রহে অনিশ্চয়তা ছিল, সেখানে স্থানীয় উৎস তৈরি হওয়ায় চাষ পরিকল্পনায় স্বস্তি এসেছে।
যশোর ছাড়িয়ে আরও এলাকায় পৌঁছাচ্ছে
শুধু যশোরের গদখালী নয়, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, সাভার, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার চাষিদের কাছেও এই ল্যাবের চারা পৌঁছাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও আরআরএফের যৌথ অর্থায়নে ২০১৭ সালে যশোরের রাজারহাট এলাকায় ল্যাবটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
চারা উৎপাদন ও কৃষিতে সহায়তা
উদ্যোগটির মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ল্যাব থেকে ৭ হাজার ১৫০টি চারা উৎপাদনের তথ্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৫৯৯টি জারবেরা চারা সরবরাহের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে জারবেরা ছাড়াও কারনেশন ও কলাগাছসহ নানা ধরনের চারা আছে।
প্রান্তিক মানুষের স্বাবলম্বীতায় শুধু ফুলের চারা নয়—মেয়েদের শিক্ষা, কৃষি উপকরণ সরবরাহ, ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সচেতনতার কাজও করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এনজিওগুলোর ভূমিকা আছে; তবে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কোথাও কোথাও হয়রানির অভিযোগও ওঠে।
সেচে সুবিধা, পরিকল্পনায় লাভ
আরআরএফের উদ্যোগ শুধু চারা সরবরাহে সীমিত নয়। মহেশপুর এলাকায় আটটি সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ফলে চাষিদের জমিতে সেচ ব্যবস্থায়ও নতুন গতি এসেছে বলে স্থানীয়ভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও বিষয়টি অর্থবহ—দেশের ভেতরে কৃষি ও ছোট উদ্যোগ সচল থাকলে কর্মসংস্থান ও পারিবারিক আয়ের ভিত শক্ত হয়। আর সাশ্রয়ী উপকরণ পেলে চাষিরা অনিশ্চয়তা কমিয়ে ভালো উৎপাদনের দিকে এগোতে পারেন।
প্রশ্নোত্তর
চারা সংগ্রহে আগে কী সমস্যা ছিল?
ভারত থেকে আনতে খরচ বেশি হতো এবং সময়মতো চারা পৌঁছাবে কি না—এই অনিশ্চয়তা ছিল।
এই উদ্যোগে কীভাবে সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা?
স্থানীয় ল্যাব থেকে তুলনামূলক কম দামে চারা পাওয়া এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় সময়ের চাপ কমে আসছে।
কাজটি কি শুধু ফুলচাষে?
না, মেয়েদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ ও সেচব্যবস্থার মতো সহায়তার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









