চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো টিকে থাকাই যেন কঠিন হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ৫০ বা তার কম—এমন ২১টি স্কুলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী পরিবারসহ সবার কাছে প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
২১টি সরকারি প্রাথমিক স্কুল বিলুপ্ত ঘোষণা

চট্টগ্রামে ২ হাজার ২৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীসংকট সবচেয়ে বেশি এমন কিছু প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সংখ্যার নিচে শিক্ষার্থী থাকায় কিছু বিদ্যালয়কে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী কম, প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য
শুধু শিক্ষার্থী নয়, জনবল সংকটও সমানভাবে চাপ ফেলছে। ২ হাজার ২৬৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮২৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। কোথাও প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হলে ক্লাস-পরিচালনা ও মানসম্মত পাঠদানের ধারাবাহিকতা আরও দুর্বল হয়।
শিক্ষার্থীবিহীন স্কুল, বাধ্য হয়ে অন্যত্র ক্লাস
বন্দর থানার লালদিয়ার চর এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী নেই। বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে।
কেন কমছে শিক্ষার্থী
শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক জনবলের সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি—সব মিলিয়ে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে আগ্রহ কমছে। এছাড়া মাদ্রাসা ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারও শিক্ষার্থী টানায় ভূমিকা রাখছে।
জেলাজুড়ে শিক্ষার্থী প্রবণতায় ওঠানামা
জেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ওঠানামা করলেও সামগ্রিক চাপ কমছে না। ২০২২ সালে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজারের মতো। পরের বছরগুলোতে তা ধীরে ধীরে নেমেছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে, আবার কমে বর্তমানের সংখ্যায় এসেছে।
চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলের এই সংকট সরাসরি প্রবাসী পরিবারের চিন্তায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেশে ফিরে গিয়ে সন্তানদের ভর্তি, টিউশন-খরচ, এবং মানসম্মত পাঠদানের নিশ্চয়তা—সবকিছুর সঙ্গে স্কুল টিকে থাকা জড়িয়ে।
প্রশ্নোত্তর
চট্টগ্রামে কেন ২১টি সরকারি স্কুল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে?
শিক্ষার্থী ৫০ বা তার কম থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলুপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি কী সমস্যা বাড়ছে?
প্রধান শিক্ষকের পদসহ জনবলের শূন্যতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা—দুটিই চাপ বাড়াচ্ছে।
অভিভাবকরা কেন সরকারি স্কুলের বদলে অন্য জায়গায় ভর্তি দিচ্ছেন?
জনবল ও সুবিধার ঘাটতি, শিক্ষক-প্রশাসনিক সংকট, এবং বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারের কারণে আগ্রহ কমছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









