GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান / তথ্যপ্রযুক্তি / শিশুর অবস্থান জানতে সহায়তা করবে যেসব জিপিএস ট্র্যাকার

শিশুর অবস্থান জানতে সহায়তা করবে যেসব জিপিএস ট্র্যাকার

সন্তান স্কুল, কোচিং কিংবা খেলতে বাইরে গেলে নির্ধারিত সময়ের পরও বাড়ি না ফিরলে দুশ্চিন্তায় পড়েন অভিভাবকেরা। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে শিশুর অবস্থান জানার জন্য GPS ট্র্যাকার কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে বাজারে থাকা সব ট্র্যাকারের সুবিধা, নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা এক নয়।

তাই শিশুর জন্য GPS ট্র্যাকার কেনার আগে ব্যাটারি, নেটওয়ার্ক, লোকেশন আপডেট, আকার, নিরাপত্তা ফিচার ও অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে জানা জরুরি।

GPS ট্র্যাকার কীভাবে কাজ করে?

GPS ট্র্যাকার স্যাটেলাইটের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইসটির অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর সিম, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই অবস্থানের তথ্য অভিভাবকের ফোনের অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠায়।

কিছু ডিভাইসে জিওফেন্স, লোকেশন হিস্ট্রি ও SOS অ্যালার্টের মতো সুবিধাও থাকে।

তবে GPS ট্র্যাকার শিশুর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে, নেটওয়ার্ক না থাকলে বা ডিভাইসটি খুলে গেলে অবস্থান জানা নাও সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশে পাওয়া যায় যেসব ধরনের ট্র্যাকার

বাজারে ছোট বহনযোগ্য GPS ডিভাইস থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য তৈরি GPS স্মার্টওয়াচ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।

জিএফ-২১: প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা দামের এই ডিভাইসে GPS, A-GPS, Wi-Fi, LBS, জিওফেন্স, লোকেশন হিস্ট্রি ও SOS সুবিধার কথা বলা হয়েছে। ব্যাটারি ৪৫০ mAh এবং বিক্রেতার দাবি অনুযায়ী ২ থেকে ৩ দিন চলতে পারে।

সাইনোট্র্যাক ST-903: প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দামের এই ডিভাইসে ১,০৫০ mAh ব্যাটারি, জিওফেন্স, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও IP67 পানি প্রতিরোধী সুবিধার কথা বলা হয়েছে।

সাইনোট্র্যাক ST-915: প্রায় ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা দামের ডিভাইসটিতে ১০,০০০ mAh ব্যাটারি, GPS, A-GPS, LBS, জিওফেন্স ও রুট হিস্ট্রির সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর আকার ও ওজন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় শিশুদের জন্য এটি সব ক্ষেত্রে সুবিধাজনক নাও হতে পারে।

ইজিট্র্যাক্স PL200 Kids Tracker: শিশুদের জন্য বাজারজাত এই ডিভাইসে 4G LTE, 2G fallback, GPS, BDS, GLONASS, দুইমুখী কল, লাইভ ম্যাপ ও ৯০ দিনের লোকেশন হিস্ট্রির সুবিধার কথা বলা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও iOS অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব ড্যাশবোর্ডও রয়েছে।

GPS স্মার্টওয়াচও হতে পারে বিকল্প

আলাদা ট্র্যাকার না কিনে GPS-যুক্ত কিডস স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করা যায়। এতে GPS, LBS, Wi-Fi positioning, SOS কল ও SIM calling-এর মতো সুবিধা থাকতে পারে।

তবে শিশুর হাতে দামি বা নজরকাড়া ডিভাইস থাকলে সেটি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তাই বেশি ফিচার থাকলেই সেটি শিশুর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, এমন নয়।

কেনার আগে যেসব বিষয় দেখবেন

শিশুর জন্য GPS ট্র্যাকার কেনার সময় বিশেষভাবে খেয়াল করা উচিত—

  • 4G বা বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক সমর্থন
  • GPS-এর পাশাপাশি অন্য positioning system
  • ব্যাটারি ব্যাকআপ
  • লোকেশন আপডেটের সময়
  • লোকেশন হিস্ট্রি
  • জিওফেন্স অ্যালার্ট
  • SOS সুবিধা
  • ডিভাইসের ওজন ও আকার
  • পানি প্রতিরোধী ব্যবস্থা
  • অ্যাপের মান ও আপডেট
  • SIM ও ডেটা খরচ
  • বাংলাদেশে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন

Bluetooth ট্র্যাকার কি বিকল্প হতে পারে?

Bluetooth tracker ছোট ও সহজে বহনযোগ্য হলেও এটি GPS tracker-এর মতো নয়। এ ধরনের ডিভাইস আশপাশের উপযুক্ত স্মার্টফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্ত করতে পারে।

তাই এগুলো সাধারণত ব্যাগ, চাবি বা লাগেজ খুঁজে বের করার কাজে বেশি উপযোগী। শিশুর নিয়মিত অবস্থান জানার জন্য GPS-ভিত্তিক ডিভাইসের কার্যপ্রণালি আলাদা।

শুধু ট্র্যাকারেই নির্ভর করা ঠিক নয়

GPS ট্র্যাকার অভিভাবকদের শিশুর অবস্থান সম্পর্কে বাড়তি তথ্য দিতে পারে, কিন্তু এটি নিরাপত্তার একমাত্র ব্যবস্থা নয়।

শিশুকে ডিভাইসটির ব্যবহার সম্পর্কে জানানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে SOS কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াত, স্কুলের পিক-আপ ব্যবস্থা এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত শিশুর বয়স, কোথায় ডিভাইসটি ব্যবহার হবে, নেটওয়ার্ক সুবিধা, ব্যাটারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ফিচার বিবেচনা করেই ট্র্যাকার নির্বাচন করা উচিত।

Social Icons