প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তে আবারও নড়াচড়া আসতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথম শ্রেণিতে আগের মতো লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে—যাতে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে।
লটারিতে ফেরার ভাবনা

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে এখন সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চিন্তা চলছে। বিশেষভাবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার বদলে আবার লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পক্ষে কথা উঠছে।
গত মার্চের ঘোষণার প্রেক্ষিত
গত মার্চে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, ভর্তিতে লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু হবে। সেই বক্তব্যের পর থেকেই শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে আসছিলেন—প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। একই সঙ্গে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।
কেন পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা কমতে পারে
লটারির পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, ভর্তি পরীক্ষায় প্রস্তুতির নামে কোচিং কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়লে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর জন্য সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। অতীতে ভর্তি কার্যক্রম ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও আলোচনায় ছিল। লটারির মাধ্যমে ভর্তি হলে তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমনটাই ভাবা হচ্ছে।
আগে কীভাবে চালু ছিল লটারি
একসময় শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির ব্যবস্থা চালু ছিল। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার বদলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি শুরু হয়। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষা দিয়েই হতো। পরবর্তীতে করোনার সময়ে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হয়, এবং এরপর থেকে একইভাবে চলতে থাকে।
প্রবাসী অভিভাবকদের জন্য তাৎপর্য
বাংলাদেশে প্রাথমিক ভর্তি প্রক্রিয়ার যে সিদ্ধান্তই বদলাক না কেন, পরিবারের পরিকল্পনা বদলে যায় সবচেয়ে আগে। প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা হলে প্রস্তুতিতে সময় ও ব্যয় বাড়ে, আর লটারি ফিরলে অনিশ্চয়তার চাপ কমার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। প্রবাসী অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে—কারণ ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
শেষ কথা
আগামী শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি প্রথম শ্রেণিতে লটারি ফেরানোর পথে হাঁটে, তাহলে প্রাথমিক ভর্তি ঘিরে শিশুদের চাপ ও কোচিংনির্ভরতা—দুটিই কিছুটা কমতে পারে বলে প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন-উত্তর
প্রথম শ্রেণিতে লটারি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত কি?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনার ভাবনার কথা বলা হয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সেটাই কার্যকর হবে।
লটারি বাতিল করে পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত কেন আলোচনা হচ্ছে?
পরীক্ষা হলে শিশুদের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং কোচিংনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা আছে—এ কারণে মতামত উঠছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









