হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ বা গোয়েন্দা পরিচয়ে কল বা মেসেজ এলে আগে থামুন। প্রতারকরা ভয় দেখিয়ে টাকা চাওয়া বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করানোর ফাঁদ পাতে—আপনার ব্যাংকিং তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রতারকরা কীভাবে ভয় দেখায়

প্রতারণার শুরুটা সাধারণত ভীতির বার্তা দিয়ে। তারা দাবি করে আপনার নামে মামলা হয়েছে, আপনার নম্বর দিয়ে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বা কোনো অপরাধের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ আছে। এরপর বলে দেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ‘মীমাংসা’ করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চায়। আবার কখনও তারা একটি লিংক পাঠিয়ে সেটিতে প্রবেশ করতে বলে।
লিংকে ক্লিক করলে কী ঝুঁকি
লিংকে প্রবেশ করলে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল হতে পারে। ফলে ফোনের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরপর ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা ব্যক্তিগত ছবি—সবই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এগুলো দেখলেই ধরুন প্রতারণা
অপরিচিত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে কল, অস্বাভাবিক ভাষা, তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া—এসবই বড় লক্ষণ। গোপনে টাকা পাঠাতে বলা হলে আরও সতর্ক হোন। শুধু প্রোফাইল ছবিতে পুলিশের পোশাক বা সরকারি লোগো থাকলেই সেটি সত্যিকারের পরিচয় হয় না। কারণ যে কেউ সহজেই এমন ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করতে পারে।
এখন কী করবেন
পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য বা অর্থ লেনদেন করবেন না। যদি কেউ নিজেকে পুলিশ বা কোনো সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা বলে দাবি করে, তার কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। দরকার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় বা সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করুন। সন্দেহজনক কল বা মেসেজ এলে সবার আগে কল/মেসেজ থামিয়ে যাচাই প্রক্রিয়ায় যান—কয়েক মিনিট যাচাইই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
পরিবারের বয়স্কদেরও সতর্ক করুন
প্রযুক্তিতে কম অভিজ্ঞ কিংবা বয়স্ক সদস্যরা এ ধরনের ভয়ভীতিতে সবচেয়ে বেশি ফাঁদে পড়েন। তাই পরিবারের সবাইকে বুঝিয়ে দিন—অচেনা হোয়াটসঅ্যাপ কল, ভিডিও কল বা সন্দেহজনক মেসেজ এলে আগে যাচাই, পরে সিদ্ধান্ত।
প্রশ্নোত্তর
কল/মেসেজে যদি ‘মামলা হয়েছে’ বলা হয়, তবু কি শুনব?
না। আগে যাচাই না করে কোনো লিংক, টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
প্রোফাইলে পুলিশের ছবি থাকলে কি নিশ্চিত হওয়া যায়?
না। ছবি ভুয়া হতে পারে। সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে মিলিয়ে নিন।
সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করব?
লেনদেন বন্ধ করুন, লিংকে ক্লিক করবেন না, তথ্য শেয়ার করবেন না এবং অফিসিয়ালভাবে যাচাই করুন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









